লিটন কুমার দাসের টেস্ট ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি সংখ্যা ছয়। তিনটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুটি আবার দলের চরম বিপর্যয়ে। সিলেটে গতকাল ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলেন লিটন, বাংলাদেশ যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে তার ১৩৮ রানের সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে নিংসন্দেহে অন্যতম সেরা। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে টাইগাররা যখন চরম বিপর্যয়ে, তখনই ১৩৮ রানের সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন। ১১ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ক্যারিয়ারে লিটন সাত টেস্টের ১১ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরি ও ২ হাফ সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৫০ রান করেছেন। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, লিটনের ফেবারিট প্রতিপক্ষ পাকিস্তান!
ইনিংসের ৭১তম ওভারে খুররম সাজ্জাদের দ্বিতীয় বলটিকে একটু পেছন থেকে কাভারে পাঞ্চ করেন লিটন। বলটি পয়েন্ট ও কাভারের ফাঁক গলিয়ে বাউন্ডারি হয়। ওই বাউন্ডারিতেই লিটন ব্যক্তিগত ৯৯ রান থেকে পৌঁছে যান ১০৩ রানে। অবশ্য পাঞ্চ করার সঙ্গে সঙ্গে সাজঘরে অপেক্ষায় থাকা সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ, ম্যানেজার নাফিস ইকবালসহ সবাই লিটনের সেঞ্চুরি উদ্যাপন করেন। লিটন তিন অঙ্কের জাদুকরী ইনিংসটি উদ্যাপন করেন বল সীমানা পার হওয়ার পর। সেঞ্চুরির পর এক হাতে হেলমেট এবং অন্য হাতে ব্যাট নিয়ে অভিবাদন জানান সিলেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার দুয়েক দর্শক ও সতীর্থদের। ১৫৯ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ১২৬ রানের ইনিংসটি ৫৪ টেস্টের ৯৩ ইনিংসে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। লিটনের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও অপরাপর ব্যাটারদের বড় কোনো স্কোর না থাকায় প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে অলআউট হয়। সফরকারী পাকিস্তান খেলতে নেমে দিন শেষ করে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলে।
লিটন আগের সেঞ্চুরিটি করেন মাত্র দুই ইনিংস আগে। গত বছরের নভেম্বরে মিরপুর স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯২ বলে ১২৮ রান করেছিলেন। এরপর চলতি বছর মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। উভয় ইনিংসে উইকেটরক্ষক ব্যাটারের রান ছিল ৩৩ ও ১১। রান না পাওয়ায় চাপে ছিলেন। গতকাল সিলেটের সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত উইকেটে সতীর্থরা যখন বড় কোনো স্কোর করতে পারছিলেন না, তখন তিনি সাবলীল ব্যাটিং করেন উইকেটের চারিদিকে স্ট্রোক খেলে। সেঞ্চুরি করলেও পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদের ভুলে বেঁচে যান লিটন। সাজ্জাদের বলে বাউন্সার খেলেন লিটন। বল ব্যাটিং গ্লাভস ছুঁয়ে পাকিস্তানের উইকটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি হয়। রিভিউ নেওয়ার সুযোগ ছিল পাকিস্তান অধিনায়কের। কিন্তু নেননি। বেঁচে যান লিটন। টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেছে লিটনের গ্লাভস ছুঁয়েছিল সাজ্জাদের বাউন্সার। লিটন সেঞ্চুরি করার পর ধন্যবাদ জানান টেলএন্ডে ব্যাটিং করা তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামদের, ‘খুব সহজ ছিল না ব্যাটিং করা। ওভারের শুরুতে আমি রান নেইনি। কারণ চাইনি টেলএন্ডে যারা ব্যাট করেন, তারা বল ফেস করুক। দলে আমার ব্যাটিং রোল একটু ভিন্ন। বরাবরই আমি মুশফিক ভাই, মিরাজদের সঙ্গে ব্যাটিং করি। টেলএন্ডে যারা ব্যাটিং করে, তারা বড় স্কোর করতে পারে না। সেজন্য আমি একটু ভিন্ন পরিকল্পনায় ব্যাটিং করেছি। শেষ দিকে তাইজুল ভাই (জুটিতে ৬০ রান), তাসকিন (জুটিতে ৩৮ রান) ও শরিফুল ( জুটিতে ৬৪ রান) সহায়তা করেছে।’
সিলেটে নাজমুল বাহিনী খেলছে টেস্ট সিরিজ জয়ের টার্গেটে। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৪ রানে। সিলেটের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল নাজমুল বাহিনী খেলেছে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে। বাঁ-হাতি ওপেনার সাদমান ইসলামের ইনজুরিতে ১০৮তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অভিষেক তানজিদ তামিমের। মিরপুরে বাজে বোলিং করে বাদ পড়েন ইবাদত হোসেন। তার বদলে খেলানো হয় শরিফুলকে। পাকিস্তান দলে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম ও অফ স্পিনার সাজিদ খান।