নির্ধারিত সময়ের প্রায় পুরোটা জুড়েই হতাশায় ডুবে ছিল চেলসি। মনে হচ্ছিল, আরেকটি হার যোগ হতে যাচ্ছে তাদের ব্যর্থতার তালিকায়। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন এন্সো ফের্নান্দেস। তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টার গোলে ম্যানচেস্টার সিটির কাছ থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করে নেয় লন্ডনের ক্লাবটি।
রোববার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। প্রথমার্ধে টিজানি রেইন্ডার্সের গোলে এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখছিল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। তবে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফের্নান্দেসের গোলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট জয়ের পর নতুন বছরের প্রথম দিন সান্ডারল্যান্ডের মাঠে পয়েন্ট হারিয়েছিল সিটি। ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও একই অভিজ্ঞতা হলো তাদের।
২০ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অ্যাস্টন ভিলা। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান এখনো ৬ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, চেলসি হারের মুখ থেকে ফিরে একটি পয়েন্ট পেলেও তাদের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। এই ম্যাচ দিয়ে টানা চার ম্যাচ জয়শূন্য রইল দলটি। সমান ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে পঞ্চম স্থানে, চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে।
টানা ব্যর্থতার দায়ে তিন দিন আগে বরখাস্ত হয়েছেন চেলসির কোচ এন্টসো মারেস্কা। ফলে প্রধান কোচ ছাড়াই মাঠে নামে দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে সিটি। ৩৯তম মিনিটে আর্লিং হলান্ডের বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। তিন মিনিট পরেই অবশ্য ডেডলক ভাঙেন রেইন্ডার্স। হলান্ডের উদ্দেশে দেওয়া বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে তার কাছে এলে ঠাণ্ডা মাথায় ডি-বক্সে ঢুকে গোল করেন ডাচ মিডফিল্ডার।
শেষ দিকে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে চেলসি। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে কোল পামার দারুণ সুযোগ পেলেও বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। তবে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফের্নান্দেসের জেদি প্রচেষ্টায় গোল হলে হার এড়ায় সফরকারীরা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই চেলসি শিবিরে উদযাপন আর সিটি শিবিরে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক