ব্যাটিং অর্ডার বদল মানেই ঝুঁকি। কিন্তু সেই ঝুঁকিকেই শক্তিতে রূপান্তর করেছেন তাওহীদ হৃদয়। বিপিএলের চলতি আসরে ব্যাটিং পজিশনের দোলাচলে শুরুটা যেখানে ছিল হতাশার, ওপেনিংয়ে উঠে সেখান থেকেই বদলে দিয়েছেন নিজের গল্প এবং দলের ভাগ্য।
রংপুর রাইডার্সের হয়ে তিন ও চার নম্বরে খেলে প্রথম ছয় ম্যাচে রান ছিল মাত্র ১০৬। গড় ১৭.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১০৯.২৭। রানের তালিকায় তখন ছিলেন যৌথভাবে ১৬ নম্বরে। কিন্তু ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তই বদলে দেয় দৃশ্যপট।
চার ম্যাচ ওপেন করে ২৭২ রান, গড় ৯০.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৫৬.৩২। সেই সঙ্গে ৯৭, ৬২ এবং নোয়াখালীর বিপক্ষে ৬৩ বলে ১০৯। এই ইনিংসগুলোতে শুধু রান নয়, এসেছে আত্মবিশ্বাসের বার্তাও। ৩৭৮ রান নিয়ে এখন তিনি এই বিপিএলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।
এই বদলের পেছনে ছিল দলীয় ভাবনাই। নোয়াখালীর বিপক্ষে ম্যাচ-সেরা হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় জানালেন, ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছিলেন পেশাদারিত্ব থেকেই।
হৃদয় বলেন,'পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সব জায়গায় খেলার অভ্যাসটা রাখা উচিত এবং সব জায়গায় কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বড় বড় ক্রিকেটারও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওঠা-নামা করে। দল থেকে যখন আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে, আমাকে যখন বলেছে, আমি বলেছি যে আমার কোনো সমস্যা নেই।'
তিনি আরও বলেন,'আমি নিজে থেকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি যে, আমাকে যখন যেখানে নামাবে, চেষ্টা করব অবদান রাখার জন্য। টপ অর্ডারে খেললে ইনিংসটা বড় করার সুযোগ থাকে।'
পরিসংখ্যানও সেই কথাই বলছে। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার গড় ৩০.৫৬ হলেও ওপেনিংয়ে তার গড় ৪৭.৬৪। স্ট্রাইক রেটও অন্য পজিশনের তুলনায় বেশি। তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো কোনো সংস্করণেই ওপেন করা হয়নি তার।
এখানেই আসে জাতীয় দলের প্রসঙ্গ। এত কিছুর পরও ওপেনিং নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না হৃদয়। বরং বর্তমান টপ অর্ডারদের ওপর আস্থা রাখার পক্ষেই তার অবস্থান।
তিনি বলেন,'জাতীয় দল নিয়ে এত কিছু বলতে পারব না। জাতীয় দলে তো অনেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আছে। তারা গত এক বছর ভালো করে এসেছে। আমি মনে করি না যে এই জায়গাটা এই মুহূর্তে। এটা আমার চিন্তাভাবনা, দল কী চিন্তা করছে, জানি না। যারা আসলে এতদিন ভালো করে এসেছে, তাদের ওপর অবশ্যই বিশ্বাস রাখা উচিত।'
রংপুরের অধিনায়ক এবং জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের সঙ্গে ওপেনিং জুটি গড়লেও, জাতীয় দল নিয়ে কোনো বার্তা পাননি বলেই জানালেন হৃদয়।
বিডি প্রতিদিন/মুসা