চার ছক্কায় দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংস খেলার পাশাপাশি স্বর্ণা আক্তার অবদান রাখলেন বল হাতেও। পাশাপাশি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৩০ রানে হারাল বাংলাদেশ।
নেপালের কির্তিপুরে আজ মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে তোলে ১৬৮ রান। পাপুয়া নিউ গিনি ২০ ওভার খেলে করতে পারে ১৩৮ রান। চার ছক্কা ও একটি চারে ১৪ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্বর্ণা। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম কোনো ব্যাটার এক ইনিংসে চারটি ছক্কা মারতে পারলেন। টি-টোয়েন্টিতে আগের রেকর্ড তিন ছক্কা ছিল যৌথভাবে আয়েশা রহমান, সানজিদা ইসলাম ও নিগার সুলতানার। ওয়ানডেতে তিন ছক্কা মারা একমাত্র ব্যাটার স্বর্ণাই।
স্বর্ণার এই ১৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ২৬৪.২৮। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্তত ২০ ছোঁয়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সেরা স্ট্রাইক রেটের ইনিংস এটি। যেকোনো মানদণ্ডেই এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটের ইনিংস আছে আর কেবল একটি। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে জাহানারা আলম খেলেছিলেন ৫ বলে ১৮ রানের ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ছিল ৩৬০।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে গড়েন ৪৯ রানের জুটি। ১১ বলে ১৭ রান করা জুয়াইরিয়া আউট হলে ভাঙে টাইগ্রেসদের উদ্বোধনী জুটি। দলীয় ৬৭ রানে ফেরেন রাবেয়া। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৫ রান। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি অবশ্য ৬ বলে ৬ রান করেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। এরপর উইকেটে এসে তাণ্ডব শুরু করেন স্বর্ণা। ১৬তম ওভারে উইকেটে আসা স্বর্ণার প্রথম ৪ বলে রান ছিল ৫। এরপর ১৭তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে হাত খোলেন তিনি। পরের ৮ বলের মধ্যে আসে আরও ৩ ছক্কা। ২ বল বাকি থাকতে আউট হন স্বর্ণা। এর আগে ৪ ছক্কা ও ১ চারে ১৪ বলে ৩৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
লক্ষ্য তাড়ায় ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাপুয়া নিউ গিনির মেয়েরা। ২ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক ব্রেন্ডা তাও ও সিবোনা জিমি মিলে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। তবে তাদের রান তোলার গতি ছিল অনেক মন্থর। এতে করে রানের চাপে পড়ে দলটি। দলীয় ৯৮ রানে ৩৫ রান করা ব্রেন্ডা আউট হলে অনেকটাই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে পাপুয়া। ৮ রানের ব্যবধানে ফিরে যান জিমিও। তার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে শেষ হয় পাপুয়া নিউ গিনির ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খাতুন, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা নেন ১টি করে উইকেট।
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৬৮/৫ (দিলারা ৩৫, জুয়ায়রিয়া ১৭, শারমিন ২৮, নিগার ৬, সোবহানা ৩৪*, স্বর্ণা ৩৭, রিতু ৫*; মাইরি ৪-০-৩৭-১, হেনাও ৪-০-৪৪-১, পাউকে ১-০-৭-০, সিবোনা ১-০-১৩-০, ইসাবেল ৪-০-১৮-০, হানে ৩-০-২১-০, ডিকা ৩-০-২৫-১)।
পাপুয়া নিউ গিনি: ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (হল্লান ২১, কনিও ১২, ব্রেন্ডা ৩৫, সিবোনা ২৮, পাউকে ৮, নাওয়ানি ১৫, হেনাও ৮, ইসাবেল ০, হানে ৩, ডিকা ১*, মাইরি ৪*; মেঘলা ৩-০-২৮-১, রাবেয়া ৪-০-২৬-০, সুলতানা ৪-০-২৬-০, রিতু ৪-০-২৬-১, ফাহিমা ৩-০-১৩-১, সোবহানা ১-০-১২-১, স্বর্ণা ১-০-৬-১)।
ফল: বাংলাদেশ ৩০ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: স্বর্ণা আক্তার।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ