পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে, কিন্তু এই জয় কেবল রানের জন্য ছিল না। ম্যাচটি হলো এক চমকপ্রদ কৌশলের উদাহরণ, যেখানে পাকিস্তান সুপার সিক্সের নিয়ম অনুযায়ী নিজের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য স্বেচ্ছায় পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেই কৌশলে বাদ পড়েছে স্কটল্যান্ড ও সুপার সিক্সে উঠেছে জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ১২৮ রান করে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শুরুতে কিছুটা স্থির থাকলেও নাথানিয়েল হ্লাবানগানা ৮৫ বল খেলে ৫৯ রান যোগ করেন। আলি রাজা, মোহাম্মদ সাইয়্যাম ও আবদুল সুবহানের কার্যকর বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৫.৫ ওভারে অলআউট হয়।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ইনিংস শুরুতে চমৎকার রানের গতি দেখায়। তবে ১৫.৩ ওভারে ৮৯ রানে পৌঁছানোর পর, পরবর্তী ৬৩ বলেই পাকিস্তান মাত্র ৩১ রান যোগ করে। এভাবে তারা দুই উইকেট হারিয়ে হলেও গতি সীমিত রাখে। অনেকেই মনে করতে পারেন, 'দেরি করছে পাকিস্তান?', কিন্তু এই ধীরগতিই ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান চাইছিল ২৬ ওভার পূর্ণ হওয়ার পর জয় নিশ্চিত করতে।
ফলে কি হল? ২৬ ওভারের আগে জয় পেলে স্কটল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠতো এবং জিম্বাবুয়ে বাদ যেত। পাকিস্তান দুই বল দেরিতে জয় নিশ্চিত করে এবং ফলাফল হলো জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে, স্কটল্যান্ড বাদ। সামির মিনহাস ছিলেন ইনিংসের হাইলাইট, ৭৪* রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান। উসমান খান ও আহমেদ হুসেইন যথাক্রমে ২৬ ও ২৪* রান যোগ করেন।
পাকিস্তানের এই কৌশলটি কেবল ম্যাচ জেতার জন্য নয়, বরং সুপার সিক্সের নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের সুবিধা বজায় রাখার জন্য। সুপার সিক্সে প্রতিটি দল আগের গ্রুপ পর্বের নির্দিষ্ট পয়েন্ট ও নেট রানরেট ক্যারি করে। স্কটল্যান্ড উঠলে পাকিস্তানকে কম রানরেট ক্যারি করতে হতো কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তারা জিতেছিল ৪৪তম ওভারে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সাথে ২৬.২ ওভারেই ম্যাচ জেতার ফলে তাদের নেট রানরেট ভালো থাকে, যা পরবর্তী রাউন্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে পাকিস্তানের এই “ধীর গতি” কৌশল মাঠে এবং টেবিলে দুই দিকেই কার্যকর হলো। যদিও কিছু সমালোচক বলবেন এটি স্পিরিট অফ দ্য গেমের বাইরে, বাস্তবে প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে পাকিস্তান ইচ্ছা করেই স্কটল্যান্ডকে বাদ দিয়েছে। খেলোয়াড়দের দৃঢ় পরিকল্পনা এবং খেলার কৌশলই এই ম্যাচকে দেখিয়েছে যে, কখনও কখনও জয় কেবল ব্যাট-বোলের নয়, স্মার্ট স্ট্র্যাটেজির মাধ্যমেও আসে।
এই ম্যাচে পাকিস্তানের কৌশল এবং ম্যাচের ফলাফল দেখিয়েছে যে, কেবল রান করা বা উইকেট নেওয়া নয়, খেলোয়াড় এবং দলের পরিকল্পনা কিভাবে একটি টুর্নামেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে। জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে উঠেছে, স্কটল্যান্ড সমর্থকরা হতাশ, আর পাকিস্তান নিজেদের সুবিধামতো অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম