রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা, একের পর এক নাটকীয় মুহূর্ত আর নখ কামড়ানো অপেক্ষা অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে শেরপুর ও গাজীপুরের লড়াই যেন উত্তেজনার সব সীমা ছুঁয়ে ফেলেছিল। নির্ধারিত সময়ের ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়ায় অবিশ্বাস্য ৩৫ শটের টাইব্রেকারে, যেখানে শেষ পর্যন্ত ১৮–১৭ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে ওঠে শেরপুর জেলা দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে শেরপুর। তারই পুরস্কার আসে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের অষ্টম মিনিটে। ইমরান আলীর দারুণ ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় দলটি। তবে গাজীপুর ম্যাচ ছাড়েনি। শেষ মুহূর্তে, ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সিয়াম ম্যাচে সমতা ফেরান।
নির্ধারিত সময় শেষে ১–১ গোলে সমতায় থাকায় ফলাফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। দুই দল পাঁচটি করে শট নিলেও তখনো নিষ্পত্তি হয়নি ম্যাচ। এরপর শুরু হয় সাডেন ডেথ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা শ্বাসরুদ্ধকর এই টাইব্রেকার লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত ১৮–১৭ শটে জয় নিশ্চিত করে শেরপুর।
পরিসংখ্যানে দেখা যায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের স্পষ্ট ছাপ। ম্যাচে শেরপুর নেয় ৪টি অন–টার্গেট শট, আদায় করে ৫টি ফ্রি কিক ও ৩টি কর্নার। গাজীপুরের অন–টার্গেট শট ছিল ৩টি, সঙ্গে ৬টি ফ্রি কিক ও ৩টি কর্নার।
অন্যদিকে, দিনের প্রথম সেমিফাইনালে জামালপুর স্টেডিয়ামে স্বাগতিক জামালপুর জেলা দল মুখোমুখি হয় কিশোরগঞ্জের। নির্ধারিত সময়জুড়ে দুই দলের আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনার ঘাটতি ছিল না। তবে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে ম্যাচও গড়ায় টাইব্রেকারে।
স্নায়ুর পরীক্ষায় সেখানে ৪–৩ ব্যবধানে জয় পায় জামালপুর, নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট। ম্যাচে জামালপুর নেয় ২টি অন–টার্গেট শট, আদায় করে ৪টি ফ্রি কিক ও ২টি কর্নার। কিশোরগঞ্জের অন–টার্গেট শটও ছিল ২টি, সঙ্গে ৩টি ফ্রি কিক।
টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন জামালপুরের মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরমান।
এতে করে আগামী রোববার অনূর্ধ্ব–১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শিরোপার জন্য মুখোমুখি হবে শেরপুর ও জামালপুর—যেখানে অপেক্ষা করছে আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াই।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক