একটি ক্যাচ মিসই বদলে দিয়েছে ম্যাচের গতিপথ এবং ডাচ ক্রিকেটার ম্যাক্স ও’ডাউডের অনলাইন অভিজ্ঞতা। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফের ক্যাচ ছাড়ায় জীবন পেয়ে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন তিনি। আর সেই মুহূর্তের পর সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয় সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা ও গালাগালের মুখে পড়েন ও’ডাউড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এক সময় চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ দুই ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান, হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট। এমন অবস্থায় ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান ফাহিম আশরাফ। পরের বলেই লং অনে ক্যাচের সুযোগ আসে, কিন্তু ও’ডাউড সেটি ধরতে ব্যর্থ হন।
জীবন পেয়ে ওই ওভারেই দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন ফাহিম। শেষ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৭ রানে জীবন পাওয়া ফাহিম ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
ম্যাচটি হারলে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে বড় বিপাকে পড়ত। এমনকি তখন পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণাও ঝুলে ছিল। ফলে পাকিস্তানের জয় ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করে, যার প্রভাব গিয়ে পড়ে ডাচ ক্রিকেটারের ওপর।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ও’ডাউড জানান, ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে তার ইনবক্স ভরে যায় নানা কটূক্তি ও গালাগালে।
তিনি বলেন, কিছু মন্তব্য ছিল অত্যন্ত জঘন্য, যেগুলো কাউকে বলা উচিত নয়। মনে হচ্ছিল, নেদারল্যান্ডসের সমর্থকদের চেয়ে ভারতীয় সমর্থকেরাই আমার ওপর বেশি ক্ষিপ্ত।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতেও এমন মন্তব্য দেখা যায়, 'পেশাদার ক্রিকেটার হয়ে এত সহজ ক্যাচ মিস করা যায়?' 'ক্যাচটা ধরলে প্রথম দিনেই পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেত', এ ধরনের মন্তব্যের পাশাপাশি ছিল আরও অনেক অশালীন ভাষা।
ও’ডাউড জানান, 'ম্যাচ শেষে দলের ভেতরে ভুলগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। শুধু ওই ক্যাচ নয়, আরও অনেক জায়গায় আমরা ভালো করতে পারতাম। ব্যাট হাতেও ঘাটতি ছিল। পরের ম্যাচে সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করব।'
বিডি প্রতিদিন/মুসা