ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় এক ম্যাচে টাই, তারপর সুপার ওভারও টাই। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেল আফগানিস্তান। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৪ রানের জয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আফগানিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, আর দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার মাত্র ১ উইকেট। বল হাতে আসেন অভিজ্ঞ কাগিসো রাবাদা। স্ট্রাইকে ছিলেন নুর আহমেদ।
প্রথম বলেই নো-বল করেন রাবাদা। পরের ডেলিভারি ওয়াইড। ফ্রি-হিটে রান না এলেও দ্বিতীয় বৈধ বলেই ছক্কা হাঁকান নুর। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল না নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখেন তিনি, ফলে শেষ তিন বলে প্রয়োজন হয় ৫ রান।
এরপর আবার নো-বল দেন রাবাদা, সেই বলে আসে তিন রান। সমীকরণ নেমে আসে ৩ বলে ২ রানে। তবে ফ্রি-হিটে ডাবল নিতে গিয়ে রান আউট হন ফজল হক ফারুকি। তাতেই ম্যাচ গড়ায় টাইয়ে।
প্রথম সুপার ওভারে লুঙ্গি এনগিডির বিপক্ষে ব্যাট করতে নামেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এক ছক্কা ও দুই চারে তারা তোলেন ১৭ রান।
১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডেভিড মিলান ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস শুরুটা ভালোই করেন। ব্রেভিস একটি ছক্কা মারলেও দ্রুত আউট হন। ট্রিসান স্টাবস চতুর্থ বলে চার মেরে লড়াইয়ে রাখেন দলকে। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৭ রান, স্টাবস ছক্কা হাঁকালে সুপার ওভারও টাই হয়ে যায়।
নতুন নিয়মে ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আজমতের বলে শুরুতেই ছক্কা হাঁকান স্টাবস। পরে মিলারের টানা ছক্কা ও ডাবলে ২৩ রান তোলে প্রোটিয়ারা।
২৪ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে নামে আফগানিস্তান। কেশব মহারাজের প্রথম বলেই ব্যর্থ হন মোহাম্মদ নবি, পরের বলেই আউট হয়ে চাপ বাড়ান। চার বলে যখন প্রয়োজন ২৪ রান, তখন টানা তিন ছক্কায় আশার আলো জ্বালান গুরবাজ। শেষ বলে দরকার হয় ৬ রান, এর মাঝে একটি ওয়াইডে সমীকরণ দাঁড়ায় চার মারলে টাই, ছক্কায় জয়।
তবে শেষ বলটি মাঠের বাইরে পাঠাতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন গুরবাজ। তাতেই শেষ হয় রুদ্ধশ্বাস এই লড়াই।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করে কুইন্টন ডি ককের ৫৯ ও রায়ান রিকেলটনের ৬১ রানে ভর করে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৪২ বলে ৮৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে সমতায় পৌঁছায় আফগানিস্তান।
বিডি প্রতিদিন/মুসা