স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িয়ে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার নাসির জামশেদ দেশ ও বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি লজ্জিত এবং গভীরভাবে অনুতপ্ত।
ম্যানচেস্টারের ক্রাউন কোর্ট ২০১৯ সালে তাকে ১৭ সপ্তাহের কারাদণ্ড দেন। এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্মিংহামে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) দুর্নীতি দমন ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে। পরে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামশেদ বলেন,'পাকিস্তান ও বিশ্বের সকল ক্রিকেট ভক্তদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি লজ্জিত। আমি যা করেছি তা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। নতুনদের বলব কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়াবে না। এটা আপনাকে এবং আপনার আশপাশের মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে।'
২০১৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলার সময় ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করেন জামশেদ এবং জুয়াড়িদের কাছ থেকে ঘুষ নেন বলে প্রমাণিত হয়। যদিও সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তবে ২০১৭ সালে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পরিকল্পিতভাবে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা শেষ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের ইতি টানে।
জামশেদ জানান, কারাগারে থাকার সময় তিনি চরম মানসিক সংকটে ভুগেছেন। এমনকি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন।
তিনি বলেন,'আমি অনেকবার নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলাম। যা করেছি, তার পর আমার কোনো আশা ছিল না। কিন্তু আমার স্ত্রী ড. সামারা আমাকে বাঁচিয়েছে। সে আমাদের মেয়ে হানিয়ার ছবি পাঠাতো, যা আমাকে বাঁচার শক্তি দিত। আমার স্ত্রী ও মেয়ে আমার জীবন রক্ষা করেছে।'
পাকিস্তানের হয়ে দুটি টেস্ট, ৪৮টি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জামশেদ। বর্তমানে তার ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। বাকি এক বছর মওকুফের আবেদন করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
জামশেদ বলেন,'আমি ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞার নয় বছর পূর্ণ করেছি। যদি চেয়ারম্যান আমার আবেদন বিবেচনা করেন, তবে কৃতজ্ঞ থাকব।'
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি। জানান, শুরুতে কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে বুঝতে পারেন, তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এক সহযোগী তাকে দোষ স্বীকার না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি।
বিডি প্রতিদিন/মুসা