আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বড় হার অনেক দিনই তাড়িয়ে বেড়াবে বার্সেলোনাকে। প্রথমার্ধেই ০-৪ গোলের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল শোধ করার সুযোগ পেয়েছিল কাতালান জায়ান্টরা। তবে বার্সার ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওই গোলটি অবৈধ ঘোষণা করে রেফারি। এরপর ষোলোকলা পূর্ণ করে একটি লাল কার্ডও দেখতে হয়।
সব মিলিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই হজম করতে পারছে না বার্সা। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, কোপা দেল রের এই ম্যাচে রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
দিয়াগো সিমিওনেল আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বড় হারের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন কোচ হান্সি ফ্লিকও। এমনকি বার্সেলোনার সদ্য পদত্যাগ করা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও কড়া বিবৃতি দেন। সেই প্রেক্ষিতে ন্যু ক্যাম্পের ক্লাবটি স্পেনের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে।
বার্সা আজ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এফসি বার্সেলোনা জানাচ্ছে যে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ক্লাবটি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির (সিটিএ) সভাপতি, ভিএআর বিভাগের প্রধান এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজরকে উদ্দেশ্য করে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে, চিঠিতে ক্লাবটি বারবার একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।’
বিবৃতিতে বার্সেলোনা পাঁচটি বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে। শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে অসঙ্গতি, হ্যান্ডবল সিদ্ধান্তে পরস্পরবিরোধী মানদণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ভুলের পুনরাবৃত্তি, ভিএআর ব্যবহারের প্রয়োগ ও স্বচ্ছতা ও মনিটর রিভিউয়ের মানদণ্ড।
বার্সা তাদের বিবৃতিতে আরও লিখে, ‘এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য রেফারিদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নয়; বরং প্রয়োগ করা মানদণ্ড জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো, যাতে নিশ্চিত করা যায়—প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা, রেফারিং সিদ্ধান্তে অভিন্নতা ও সব ক্লাবের জন্য সমান আচরণ।’
এছাড়া, মাঠে রিভিউ হোক বা না হোক—ভিএআরের সব অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করার দাবি জানায় বার্সেলোনা, যা তারা স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতির শেষে বার্সা প্রস্তাব দেয় যে, গুরুতর ভুল বা অবহেলার ক্ষেত্রে রেফারিদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তিমূলক বিধি বা নিয়মাবলি তৈরি করা হোক, যাতে জনসম্মুখে স্বচ্ছভাবে এর পরিণতি নির্ধারিত থাকে এবং পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
শেষে বার্সেলোনা জানায়, ‘ক্লাব আশা করে, তাদের দাবিগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কোপা দেল রের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৪-০ গোলের এই হারের পর বার্সেলোনার জন্য ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিনই। তবে ফিরতি লেগ ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে হওয়ায় এখনোও আশা দেখছে এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল ক্লাবটি। আগামী ৩ মার্চ হবে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় লেগ।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম