জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়াকে কেন্দ্র করে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে হুমকির মুখে পড়া ইরানের নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে।
পেশাদার ফুটবলারদের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রো (পেশাদার ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন) বলেছে, ২০২৬ সালের নারী এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ইরানের নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ঘটনার সূত্রপাত হয় অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে। ওই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলার আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় নীরব ছিলেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক মোহাম্মদ রেজা শাহবাজি একটি ভিডিও বার্তায় তাদের এই আচরণকে দেশপ্রেমের অভাব বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, “যুদ্ধের সময় বিশ্বাসঘাতকদের আরও কঠোরভাবে মোকাবিলা করা উচিত।”
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এক বিবৃতিতে ফিফপ্রো জানায়, টুর্নামেন্ট শেষে খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা এবং ফিফার মানবাধিকার নীতির আলোকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব। এ জন্য এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন, ফিফা ইরান ফুটবল ফেডারেশন এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ইরান ৩–০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারে। তবে তিন দিন পর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ফরোয়ার্ড সারা দিবার আবেগ ধরে রাখতে কষ্ট পান। তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। দলের কোচ জানান, দেশে থাকা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী রবিবার ফিলিপাইনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান নারী দল।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক