নিউজিল্যান্ডকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে ভারত। এর মাধ্যমে প্রথম দল হিসেবে তিনটি টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা।
গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়েছে সূর্যকুমার যাদরবা।পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
তবে উল্টো চিত্রও ছিল। বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। ব্যাট কিংবা কোনোটিতেই নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি তারা। উপমহাদেশের কন্ডিশন ও ব্যক্তিগত বাজে ফর্ম- দুটিই বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেকের জন্য। এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে হতাশ করা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্পোর্টসক্রীড়ার ‘ফ্লপ একাদশ’।
টপ অর্ডার ওপেনার হিসেবে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যান্ডন কিং। দারুণ ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন তিনি, কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। ছয় ম্যাচে মাত্র দুবার দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কিং। সব মিলিয়ে করেন ৯২ রান, গড় ১৫.৩৩ ও স্ট্রাইক রেট ১১৬.৪৫। গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তাকে একাদশ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলারও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দহীন ছিলেন। এক পর্যায়ে টানা পাঁচ ম্যাচে এক অঙ্কেই আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট ম্যাচে করেন মাত্র ৮৭ রান। তার গড় ছিল ১০.৮৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১১৬.০০। অন্যদিকে অন্য ওপেনার ফিল সল্ট ১৬.২৫ গড়ে ১৩০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগাও তিন নম্বরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ সুপার এইট ম্যাচগুলোতেও ব্যাটে বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। সাত ম্যাচে তিনি করেন মাত্র ৬০ রান, গড় ১০.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩০.৪৩।
মিডল অর্ডার—অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও মার্কাস স্টয়নিসের ব্যর্থতা দলটির বিদায়ে বড় ভূমিকা রাখে। গ্রিন চার ম্যাচে করেন মাত্র ২৪ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চমকপ্রদ হারের ম্যাচে দুই বলেই শূন্য রানে আউট হন তিনি।
স্টয়নিস চার ম্যাচে করেন ৫৫ রান, গড় ১৮.৩৩। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৪ রানে আউট হন। বল হাতে চার উইকেট নিলেও তার ইকোনমি রেট ছিল ৮.৯৪।
নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলও পুরো টুর্নামেন্টে সংগ্রাম করেছেন। নিচের মিডল অর্ডারে খেলতে নেমে নিজের শক্তি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। পাঁচ ম্যাচে করেন ৮০ রান, গড় ২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৫।
ভারতের রিঙ্কু সিং ফিনিশারের ভূমিকায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দলে দেরিতে সুযোগ পেয়েও প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। পাঁচ ইনিংসে তিনি করেন মাত্র ২৪ রান, গড় ৮ এবং স্ট্রাইক রেট ৮২.৭৫। পরে তাকে বাদ দিয়ে দলে জায়গা দেওয়া হয় সঞ্জু স্যামসনকে।
লোয়ার অর্ডার—স্পিন বিভাগে হতাশ করেছেন নিউ জিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেশভ মহারাজ। স্যান্টনারের ইকোনমি ভালো (৬.৬০) হলেও পুরো টুর্নামেন্টে নিতে পেরেছেন মাত্র দুই উইকেট। মহারাজ ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিন উইকেট নিলেও বাকি সময়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার গড় ছিল ৩৫.৮০ এবং ইকোনমি ৮.৫২।
পেস বিভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। টানা তিন ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকার পর পুরো টুর্নামেন্টে নেন মাত্র পাঁচ উইকেট। তার গড় ৪৩.৪০ এবং ইকোনমি ৮.১৩। নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফিও ব্যর্থতার তালিকায় আছেন।
২০২৫ সালে ভালো পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপে তা ধরে রাখতে পারেননি। টুর্নামেন্টে তিন উইকেট নেন তিনি, গড় ৫৪.৩৩ এবং ইকোনমি ১০.৮৬। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে যথাক্রমে ৫০ ও ৪২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সব মিলিয়ে বড় বড় নাম থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থতার এই একাদশই মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বকাপের মঞ্চে নামের চেয়ে পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
এদিকে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক স্যান্টনারের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও বল হাতে সাত ম্যাচে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাই কিউই অধিনায়ককে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ একাদশের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কামাল