সম্প্রীত পিসিএলের একটি ম্যাচে বল বিকৃতি অভিযোগে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফখর জামানকে। লাহোর কালান্দার্স-করাচি কিংস ম্যাচে বল বিকৃতির অভিযোগ ওঠে।
এরপর হঠাৎ করেই বল টেম্পারিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান দাউদ মালান এই বিষয়ে তার মতামত দিয়েছেন। গত কয়েক দশকে ফিল্ডিং দলের বল টেম্পারিংয়ের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত হলো ২০১৮ সালের 'স্যান্ডপেপার গেট' বিতর্ক। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন ব্যানক্রফট লাল বলে স্যান্ডপেপার ঘষার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।
ব্যানক্রফট তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এবং সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে আইসিসি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। মালান বল টেম্পারিংয়ে এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এটি কেবল ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা কমাবে।
বিবিসি-র 'স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট' পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে মালান বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই খেলার ইতিহাসে বছরের পর বছর ধরে মানুষ বল টেম্পারিং করার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। এটা কোনো নতুন বিষয় নয়। আমি আসলে মনে করি এটিকে বৈধ করে দেওয়া উচিত, যেমন মানুষকে শুধু বল আঁচড়ানোর অনুমতি দেওয়া হোক।
ইংরেজ সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, অবশ্যই বাইরে থেকে কোনো কিছু ভেতরে আনা উচিত নয়। কিন্তু বলকে রিভার্স সুইং করানোটা নিজেই একটা দক্ষতা।
আইসিসির ৪১.৩.২ ধারা অনুযায়ী বল টেম্পারিং বিষয়ে বলকে অমসৃণ করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলা। বলে কোনো কৃত্রিম পদার্থ প্রয়োগ করা এবং বল পালিশ করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অকৃত্রিম পদার্থ প্রয়োগ করা। বলের যেকোনো সিম তুলে ফেলা বা অন্য কোনোভাবে তাতে হস্তক্ষেপ করা। আঙুল বা বুড়ো আঙুলের নখ বা অন্য কোনো সরঞ্জাম দিয়ে বলের উপরিভাগে আঁচড় কাটার কথা বলা হয়েছে।
যদিও এটা সত্যি যে আধুনিক ক্রিকেটের পিচ ও পিচের ওপর বোলার এবং ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একটি স্পষ্ট ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তবে বল টেম্পারিং এই সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
পেশাদার খেলায় বেআইনি কার্যকলাপকে উৎসাহিত করা যায় না। এর পরিবর্তে বোলাররা যাতে তাদের প্রাপ্য সম্মান পায় তা নিশ্চিত করতে আইসিসিকে অন্যান্য বিকল্প বিবেচনা করতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/কামাল