আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান তার বোলিং দিয়ে সাড়া ফেলেছেন সারা বিশ্বে। এই কারণেই একটি নয়, দুটি দেশ তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তিনি আফগানিস্তান ছেড়ে তাদের হয়ে খেলতে পারেন।
অবাক করার বিষয় হলো, ভারত থেকেও তাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা বেছে নেন তিনি। এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন বইয়ে। 'রশিদ খান: ফ্রম স্ট্রিটস টু স্টারডম' বইটিতে তিনি লেখককে জানান যে, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া- দুই দেশ থেকেই তাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বইটিতে তার বক্তব্য অনুযায়ী, 'আমাকে অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত- দুই দেশ থেকেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের বলেছিলাম, 'যদি আমি নিজের দেশের হয়ে না খেলি, তাহলে অন্য কোনো দেশের হয়েও খেলব না।'
রশিদ খান জানিয়েছেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া এই দুই দেশ তাকে নাগরিকত্ব দিলে তার জীবন অনেক বদলে যেতে পারত। তবু তিনি নিজের দেশ ও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেননি।
ভারত থেকে প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন রশিদ। ওই সময় গুজরাট টাইটান্সের হয়ে আইপিএল খেলছিলেন। দলের এক কর্মকর্তা তাকে জানান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করতে চান। সেই দিনের আলাপচারিতার কথা স্মরণ করে রশিদ খান বলেন, ‘আমি গেলাম এবং তাকে সালাম দিলাম। তারপর কথা শুরু হলো। তিনি বলছিলেন, 'তোমার দেশের (আফগানিস্তান) পরিস্থিতি খুব খারাপ। ভারতে এসে থাকো। আমরা তোমাকে ভারতীয় নথিপত্র দেব, এখানেই থাকবে, এখানেই ক্রিকেট খেলবে।'
এমন প্রস্তাবে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কীভাবে উত্তর দেব বুঝতে পারছিলাম না। তবে আমি হেসে বলেছিলাম, 'আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি আমার দেশ আফগানিস্তানের হয়ে খেলছি।'
বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগে দাপট দেখানো একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রস্তাবগুলো তার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারত। উন্নত সুযোগ-সুবিধা, স্থিতিশীল জীবন এবং বড় সুযোগ- সবকিছুই তার সামনে ছিল। কিন্তু রশিদ খান কখনোই এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার কথা ভাবেননি। সূত্র: গালফ নিউজ
বিডি প্রতিদিন/এএম