বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে। জাতীয় দল কমিটির বৈঠক হলেও এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত হয়নি। ফলে হামজাদের নতুন কোচের নাম জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।
জাতীয় দল কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কোচ নিয়োগের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
জাতীয় দল কমিটির সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে সাক্ষাৎকার নেওয়া কোচদের মূল্যায়ন শেষে ছয় জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। এখন এই ছয় জনের সঙ্গে বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে আলোচনা চলবে। আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে দুই পক্ষের দর কষাকষি।
আজকের বৈঠকে কোন কোচকে কত অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং আলোচনার সীমা কোথায় পর্যন্ত যেতে পারে, সেটিও আলোচনা হয়েছে। দর কষাকষির পর আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জাতীয় দল কমিটির আরও একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে চূড়ান্ত নাম নির্ধারণ করে পরে নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বৈঠকে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তার মতে, কোলম্যান বাংলাদেশের দায়িত্ব নিলে দেশের ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ নতুন করে আলোচনায় আসবে। কমিটির অন্য সদস্যরাও তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তবে শুধু কোলম্যান নন, জার্মান কোচ মাইকেল লিসসহ আরও কয়েকজন বিদেশি কোচকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফেডারেশন এমন একজন কোচ চায়, যার সঙ্গে আর্থিক ও পেশাগত সব দিক থেকেই সমঝোতা সম্ভব হবে।
এবার বাংলাদেশের কোচ হওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন আলোচিত ও অভিজ্ঞ কোচ আবেদন করেছেন। সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাকে মাসে ১৩ হাজার ইউরো দিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে নতুন কোচের ক্ষেত্রে মাসে ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করা ফেডারেশনের জন্য কঠিন বলে জানা গেছে।
বাজেট প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফেডারেশনের নিজস্ব বাজেট রয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকার, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনই।