শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুর খবরে মুষড়ে পড়েছিল দলের সবাই। মাঠে নেমে শুরুতে নেপাল এগিয়ে যাওয়ায় জাগে হারের শঙ্কা। দলকে পথে ফেরাতে কর্নার থেকে অলিম্পিক গোল করলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেল দল। মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে, ঋতুপর্ণা ওই অবিশ্বাস্য গোল, সেমি-ফাইনালের জয় সবই উৎসর্গ করলেন সতীর্থের মা ও দেশবাসীর জন্য।
ভারতের গোয়ায় বুধবার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে জিতে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের আগে মারিয়া-মনিকা-ঋতুপর্ণাদের মনে ছিল প্রিয়জন হারানো শিউলিকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেওয়ার তাড়না। সেই চাওয়া পূরণের আনন্দও তাদের চোখে-মুখে ফুটে উঠল টিম বাসে ওঠার সময়। যাওয়ার আগে চেনা হাসির স্ফুরণে ঋতুপর্ণা বললেন, কর্নার থেকে করা সরাসরি গোল এখনও অবিশ্বাস্য লাগছে তার কাছে।
‘আসলে ম্যাচটা অনেক কঠিন ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল, ফাইনালে যাওয়ার। আমাদের এই ম্যাচ ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। বিশেষ করে, আমাদের সতীর্থ শিউলি দিদির মায়ের জন্য হলেও, দেশবাসীর জন্য হলেও আমাদেরকে আজ ম্যাচটা বের করে আনতে হতো। সেটা আমরা করতে পেরেছি। আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই, যারা বদলি নেমেছিল, তারাও নেমে ১২০% দিয়ে খেলেছে।’
‘এটা আমার... কী বলব? এটা আসলে স্পেশাল…গোলটা আমার কাছে মনে হয় অবিশ্বাস্য। খুবই ভালো লাগছে। জয়টা আসলে আমাদের শিউলি দিদির মায়ের জন্য এবং পুরো দেশবাসীর জন্য উৎসর্গ করেছি।’
শেষের বাঁশি বাজার পরই মাঠে বাঁধনহারা উল্লাসে মাতেন ঋতুপর্ণারা। ড্রেসিংরুমের উদযাপনটা কেমন ছিল, এমন প্রশ্নের উত্তর এই ফরোয়ার্ড দিতে গিয়ে যেন শব্দ খুঁজে পেলেন না!
‘স্বাভাবিকভাবে যেরকম উদযাপন করা হয়, ওভাবেই হয়েছে।’
ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আরেক সেমি-ফাইনালে ভারত ও ভুটানের মধ্যকার বিজয়ী দল। তবে, এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবতে চাইছেন না ঋতুপর্ণা।
‘আমাদের হাতে এখনও সময় আছে, আমরা দুদিন সময় পেয়েছি। এখন আমাদের কোচ, আমাদের কোচিং স্টাফরা যারা আছেন, তাদের প্ল্যান অনুযায়ী আমরা মাঠে নামব।’
বিডি প্রতিদিন/জেডএ