যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে টেসলা সাইবারট্রাকের ‘ওয়েড মোড’ বা অগভীর পানিতে চলার বিশেষ প্রযুক্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক গাড়ির মালিক। সোমবার রাতে গ্রেপভাইন লেকের পানিতে গাড়িটি নামিয়ে দেওয়ার পর তা তলিয়ে যায় এবং এই ঘটনায় গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গ্রেপভাইন পুলিশ বিভাগ জানায়, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কেটিস উডস বোট র্যাম্প এলাকায় একটি গাড়ি পানিতে ডুবে যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে তারা সাইবারট্রাকটিকে তীরের কাছাকাছি পানিতে আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাকটি যখন ডুবতে শুরু করে তখন একজন রসিকতা করে বলছিলেন, জনাব, আপনি এখানে গাড়ি পার্ক করতে পারেন না।
চালক পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি সাইবারট্রাকের অফ-রোড সেটিংসের অংশ ‘ওয়েড মোড’ পরীক্ষা করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই গাড়িটি লেকের পানিতে নামিয়েছিলেন। টেসলার পক্ষ থেকে এই মোডটি মূলত অগভীর পানিতে ধীরগতিতে চলার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা সচল করলে গাড়ির সাসপেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঁচুতে উঠে গাড়িটিকে সুরক্ষিত রাখে। তবে এটি নিজে থেকে চালু হয় না, চালককে ম্যানুয়ালি বা নিজে চেপে এটি চালু করতে হয়।
গ্রেপভাইন পুলিশ বিভাগ তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্টে জানায়, পানিতে নামানোর পর গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে এবং ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক ও আরোহীরা গাড়িটি ফেলে নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরবর্তীতে গ্রেপভাইন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ওয়াটার রেসকিউ টিম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি রেকার ব্যবহার করে পানি থইথই করা সাইবারট্রাকটিকে লেক থেকে টেনে তোলে।
কর্তৃপক্ষ চালকদের সতর্ক করে বলেছে, কোনো গাড়ি শারীরিকভাবে অগভীর মিষ্টি পানিতে চলার সক্ষমতা রাখলেও, টেক্সাসের আইন অনুযায়ী এমন কাজ আইনি জটিলতা এবং মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত চালকের নাম জিমি জ্যাক ড্যানিয়েল। তাকে গ্রেপভাইন জেলে নেওয়া হয়েছে এবং পার্ক বা লেকের নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি চালানো, বৈধ বোট রেজিস্ট্রেশন না থাকা এবং জলপথের নিরাপত্তা সরঞ্জাম-সংক্রান্ত একাধিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে এনবিসি ৫-এর কাছে ড্যানিয়েল দাবি করেছেন, তিনি এর আগেও আটলান্টিক মহাসাগরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে এই সাইবারট্রাক চালিয়েছেন এবং তখন কোনো সমস্যা হয়নি।
এদিকে টেসলার পক্ষ থেকে তাদের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পানিতে গাড়ি নামানোর আগে পানির নিচের পরিস্থিতি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে গভীর বা তীব্র স্রোত থাকা পানিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে গাড়ির বড় ধরনের ক্ষতিসহ আরোহীদের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ, এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি