নতুন প্রজন্মের ওয়াই-ফাই মানেই যে ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ করে রকেটের মতো বেড়ে যাবে-এ ধারণা ভাঙতে আসছে ওয়াইফাই ৮। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)-এ প্রথমবারের মতো ওয়াইফাই ৮ প্রযুক্তির প্রদর্শন করে তাইওয়ানভিত্তিক হার্ডওয়্যার নির্মাতা আসুস। তবে এ নতুন প্রযুক্তির মূল আকর্ষণ গতি নয়, বরং একসঙ্গে অনেক ডিভাইসকে আরও নির্ভরযোগ্য ও মসৃণভাবে যুক্ত রাখা।
বাস্তবে দেখা যায়, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ নিয়ে মানুষের আগ্রহ যতটা, ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা ওয়াইফাই রাউটার নিয়ে ততটা নয়। অথচ এটি ঘরের সব স্মার্ট ডিভাইসের ইন্টারনেট অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দু। পপুলার মেকানিক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াইফাই ৮ ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ গতি নাটকীয়ভাবে বাড়াবে না, তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে করবে অনেক বেশি স্মার্ট, স্থিতিশীল ও চাপমুক্ত। এখন পর্যন্ত ওয়াইফাইয়ের প্রতিটি নতুন সংস্করণ মূলত গতি বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। বিষয়টি অনেকটা মোটা স্ট্র দিয়ে মিল্কশেক খাওয়ার মতো-স্ট্র যত মোটা, তত বেশি তরল একসঙ্গে টানা যায়। ওয়াইফাই ৭ ইতোমধ্যেই প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৪৬ গিগাবিট ডেটা আদানপ্রদানের সক্ষমতা দেখিয়েছে। ওয়াইফাই ৮ সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। বরং এটি ফোকাস করেছে বাস্তব জীবনের সমস্যায়-একই সময়ে অনেক ডিভাইস ইন্টারনেট ব্যবহার করলে যে ধীরগতি, ল্যাগ বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়, তা কমানোতে।
আসুস জানিয়েছে, ওয়াইফাই ৮ মূলত ‘নির্ভরযোগ্য সংযোগ’ এবং ডিভাইসগুলোর মধ্যে বুদ্ধিমান সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। ওয়াই-ফাই ৭-এর তুলনায় ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনে প্রায় দ্বিগুণ ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্মার্ট হোম ডিভাইসের জন্য দ্বিগুণ ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করবে এ প্রযুক্তি। গেমিং বা ভিডিও কলে ল্যাগ নেমে আসবে প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগে। তবে নতুন এই ওয়াইফাই ৮ রাউটার এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৮ সালের আগে ওয়াইফাই ৮-এর চূড়ান্ত মানদণ্ড নির্ধারণ করবে না যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মান নির্ধারণকারী সংস্থা আইইইই (Institute of Electrical and Electronics Engineers)। তার আগে এটি মূলত পরীক্ষামূলক পর্যায়েই থাকবে।
তথ্যসূত্র : টেকটাইমস