Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:১৬

খাল দখল করে বহুতল ভবন

গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল

আফজাল, টঙ্গী

খাল দখল করে বহুতল ভবন

গাজীপুরে দখল-দূষণে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে সেই ঐতিহ্যবাহী খাল ও তুরাগ  নদের। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিক নদী রক্ষা আইন অমান্য করে, পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে খালের জায়গা ও নদীর তীর দখল করে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন ও বাড়িঘর। অপরদিকে বেশকিছু কারখানা মালিক কারখানার তরল বিষাক্ত বর্জ্য খালে কিংবা নদীতে ফেলে দূষণ করছেন পরিবেশ। গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, দখল-দূষণে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে গাজীপুরের সবকটি খাল ও তুরাগ নদীর। চিলাই খাল জয়দেবপুর হয়ে কালীগঞ্জের বালু খালের সঙ্গে মিলিত হয়। অপরদিকে মৈরানখাল নগরীর বড়বাড়ি খাইলকৈর এলাকা হয়ে হায়দরাবাদ ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাঝুখান দিয়ে তুরাগ নদের সঙ্গে মিলিত হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি খাল রয়েছে যার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এক সময় এসব খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। এখন একদিকে দখল আরেকদিকে দূষণ। এর মধ্যে বড়বাড়ি এলাকায় খালের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং কারখানা, খাইলকৈর মৌজায় রয়েছে সাত্তার টাওয়ার, লিজ অ্যাপারেলস লি., টঙ্গী গোপালপুর এলাকায় তুরাগ নদের তীর দখল করে রেখেছে আনোয়ার গ্রুপসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে খাল ও পরিবেশ দূষণ করছে বড়বাড়ি রূপা গ্রুপের রূপা নিট অ্যান্ড ফেব্রিক্স লি., পূবাইল হারিবাড়িরটেক অ্যান্ড ট্রাউজার্স, টঙ্গী গোপালপুর এলাকায় যাবের অ্যান্ড যোবায়ের ও টঙ্গী মুদাফা ¯প্রাইডার গ্রুপের নিটবাজারসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। বাইপাস লাইন দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান বিষাক্ত তরলবর্জ্য তুরাগ নদে ফেলছে। এছাড়া নগরীর কোনাবাড়ি বিসিক ও টঙ্গী বিসিকের বিষে বিষাক্ত হচ্ছে তুরাগ নদের পানি। বড়বাড়ি বাংজিন অ্যান্ড প্যাডিং কারখানার ম্যানেজার কাজী  আনোয়ার হোসেন মিন্টু এবং লিজ কমপ্রেক্সের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, সিটি মেয়র খাল দখলমুক্ত করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাই। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠান খালের জায়গা দখল করেনি।

এ বিষয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক আ. ছালাম সরকার বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, ইতিমধ্যে যাবের অ্যান্ড যোবায়ের কারখানার বাইপাস লাইনে নির্গত তরলবর্জ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা পরিবেশ অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরের ডিসি ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, খালের সীমানা নির্ধারণ করে উচ্ছেদ করতে হবে। গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাজীপুরের সবকটি খাল দখল-দূষণে বিপন্ন। দখলের কারণে খালগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে নগরীর বৃষ্টির পানি নামতে পারে না। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। দখল হওয়া এসব খাল উদ্ধার এবং খনন কাজ চলছে।


আপনার মন্তব্য