শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:১১

টয়লেট থেকে শুরু হোক পরিচ্ছন্নতা

জয়শ্রী ভাদুড়ী

টয়লেট থেকে শুরু হোক পরিচ্ছন্নতা
রাজধানীতে ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন অর্ধশতাধিক টয়লেট চালু করেছে দুই সিটি করপোরেশন। পান্থপথ থেকে তোলা। ছবি : জয়ীতা রায়

রাজধানীর গুলিস্থানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটের পাশে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পাবলিক টয়লেট। ‘এখানে টয়লেট’ লেখা সাইন বোর্ডের নিচে রং দিয়ে লেখা ‘এখানে খাবার পাওয়া যায়’। টয়লেটের দরজার তিন হাত পাশেই বিক্রি হচ্ছে ভাত, মাছ, ডিম, মুরগিসহ নানা পদের খাবার। পাশে আছে চা, বিস্কুট, পানের ব্যবস্থাও। দীর্ঘদিন ধরে টয়লেটের ভিতরে জমজমাট ব্যবসা চললেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে আজমপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পূর্ব পাশে খাবার হোটেল আর পাবলিক টয়লেট পাশাপাশি রয়েছে। এমন দৃশ্য রাজধানীর অনেক জায়গায় দেখা যায়। এ অপরিচ্ছন্ন-অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব টয়লেট দিবস।

প্রতিদিন রাজধানীতে কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন লাখ লাখ মানুষ। কর্মজীবী এ মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা। রাজধানীতে আধুনিক টয়লেট তৈরিতে ২০১৪ সালে বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইডের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিস), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা ওয়াসার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ১০টি টয়লেট নির্মাণ এবং তদারকি করবে ওয়াটার এইড। পরবর্তীতে ওয়াটার এইডের পাশাপাশি দুই সিটি করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে অত্যাধুনিক টয়লেট নির্মাণ শুরু করে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ড. তারিক বিন ইউসুফ বলেন, এ পর্যন্ত ডিএনসিসির আওতায় ২০টি অত্যাধুনিক টয়লেট চালু হয়েছে। আরও পাঁচটি টয়লেট উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া আমরা আরও প্রায় ২৫টি অত্যাধুনিক টয়লেট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি। নবনির্মিত পার্কগুলোতে এসব টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা যায়, ডিএসসিসির আওতায় ৩১টি অত্যাধুনিক টয়লেট চালু আছে। আরও প্রায় অর্ধশতাধিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

রাজধানীর ব্যস্ততম জায়গায় চালু রয়েছে এসব আধুনিক টয়লেট। ফার্মগেট এলাকার আনন্দ সিনেমা হলের পাশে রয়েছে অত্যাধুনিক টয়লেট। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ঝকঝকে টাইলস বসানো টয়লেট। নারী-পুরুষ-প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। টয়লেটের ভিতরে কোনো রকমের নোংরা কিংবা দুর্গন্ধ নেই। কিছুক্ষণ পরপর পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এ সময় কথা হয় আছমা তানিয়া নামে কর্মজীবী এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, শহরের পয়েন্টগুলোতে এরকম টয়লেট থাকলে কর্মজীবী মানুষের সুবিধা হতো। রাস্তায় বের হলে টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এসব কারণে আমি ইউরিন ইনফেকশনেও আক্রান্ত হয়েছি। এরকম পরিচ্ছন্ন টয়লেট থাকলে চিন্তায় পড়তে হয় না। রাস্তায় টয়লেট ব্যবহারের সমস্যার সঙ্গে স্কুলের টয়লেট নোংরা থাকায় বেড়েছে দুশ্চিন্তা। ন্যাশনাল হাইজিন ব্যাস লাইন সার্ভে এবং ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, নোংরার কারণে দেশের বেশির ভাগ স্কুলের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযুক্ত। ছাত্রছাত্রীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা নগন্য। সঠিকভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে না জানা, পর্যাপ্ত পানি, পানি ব্যবহারের পাত্র ও আলোর ব্যবস্থা নেই, দরজা লাগানোর ব্যবস্থা না থাকার চিত্র উঠে এসেছে গবেষণায়। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন কর্মীর গাফিলতি বা পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকার বিষয়ও রয়েছে। তাই বিশ্ব টয়লেট দিবস উপলক্ষে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিলিভারের টয়লেট ক্লিনিং ব্র্যান্ড ডমেক্স। টয়লেট দিবসকে কেন্দ্র করে আগামী এক বছর দেশের কয়েকশ স্কুলে টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করবে ডমেক্স। এ কর্মকান্ডের মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ওয়াটার এইড, ইয়ুথ ফর এসডিজি সিক্স, জাগো এবং ভলানটিয়ার ফর বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে টয়লেট থেকেই পরিচ্ছন্নতার সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, অপরিচ্ছন্ন নোংরা টয়লেট থেকেই রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে সবচেয়ে বেশি। 


আপনার মন্তব্য