চট্টগ্রাম নগরের মোহরা ওয়ার্ডের কাজীরহাট এলাকায় সড়কের ওপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) একটি প্লাস্টিকের ডাস্টবিন ছিল। কিন্তু চসিক সেখান থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ময়লা অপসারণ বিল পরিশোধ করছিলেন না। বিল পরিশোধ না করায় চসিকের কর্মীরা ডাস্টবিন নিয়ে যান। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের ওপরেই বর্জ্য ফেলা শুরু করেন। এতে করে সড়কের ওপরই জমে যায় বর্জ্যরে স্তূপ।
জানা যায়, নগরের ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডের মোহরা গ্রামটিতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে আছে চররাঙামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অনতি দূরে কালুরঘাট শিল্প এলাকা হওয়ায় শিল্পাঞ্চলের অনেক চাকরিজীবীও এখানে ভাড়া বাসায় বাস করেন। আছে একটি বাজারও। বলা যায়, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। কিন্তু এখানে নেই একটি স্থায়ী ডাস্টবিন। বর্জ্যরে একটা ঝুড়ি থাকলেও সেটি এখন আর নেই। ফলে বাসাবাড়ি ও অন্য বর্জ্যগুলোর সর্বশেষ গন্তব্যস্থল হয়ে যায় সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এ গ্রামে ২০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটা অত্যন্ত নাজুক। প্রায় দুই মাস ধরেই সবাই সড়কের ওপরে বর্জ্য ফেলছে। বাসার ময়লা আশপাশের সড়কেই ফেলা হচ্ছে। চসিকের মানুষ নিয়মিত না আসার কারণে এমনটি হচ্ছে। সর্বশেষ গত রবিবার একবার ময়লা নিয়ে যায়। আবার কখন নিবে তা অনিশ্চিত।
চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, ‘মোহরা ওয়ার্ডে নিয়মিত কাজ না করার বিষয়টি আমরা জেনেছি। জানার পর সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঠানো হয়েছে। চসিক এ ময়লা অপসারণ করবে। তবে ওই এলাকার বর্জ্য অপসারণ নিয়ে স্থায়ী একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চসিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ নগরে দৈনিক গৃহস্থালির বর্জ্য উৎপাদিত হয় প্রায় ৩ হাজার টন। চসিকের উদ্যোগে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
বাকিগুলো নালানর্দমা হয়ে নগরীর খালে পড়ে। চসিক বর্জ্য অপসারণের সুবিধায় নগরের ৪১টি ওয়ার্ডকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহৃত হয় ১২০টি বড় গাড়ি, ৫৫টি টমটম ও ৫০০টি ভ্যান।
এ কাজে যুক্ত আছেন মোট ৩ হাজার ৫৫৮ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ৮৩৬ জন অস্থায়ী দৈনিক চুক্তিভিত্তিক। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্যগুলো বাসা এবং ডাস্টবিন থেকে ভ্যানগাড়িতে করে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বড় ট্রাকে করে আবর্জনাগুলো হালিশহর, আনন্দবাজার ও বায়েজিদ আরেফিন নগরের বর্জ্যাগারে ফেলা হয়। এ দুটির সম্মিলিত আয়তন প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ একর।