চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। সকাল থেকে বিকাল-রাত অবধি নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কগুলো যানজটে অস্থির থাকে। ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল সময়ে সবাইকে বেশি বেগ পেতে হয়। যথাসময়ে অনেকেই অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারেন না। ভোগান্তি পোহাতে হয় অসুস্থ রোগীদের, যারা সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না। নষ্ট হয় কর্ম ঘণ্টা।
তবে এবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরের যানজট নিরসনে তিনটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে দুটি সড়ক সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প তিনটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, তিনটি প্রকল্পের মধ্যে নর্থ সাউথ-১ নামে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ সড়কটি বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিএডিসি রোড হয়ে জাকির হোসেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর পাহাড়তলী কলেজ হয়ে এটি আমবাগান সড়কের সঙ্গে মিলিত হবে। প্রায় চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৮০ ফুট প্রশস্ত এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভূমি অধিগ্রহণেই খরচ হবে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত মেহেদীবাগ সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ কোথাও ২৫ ফুট, কোথাও ৪০ ফুট।
প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সড়কটির প্রস্থ হবে ৬০ ফুট। ১ দশমিক ১৩ কিলোমিটারের এ সড়ক সম্প্রসারণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬৭ কোটি টাকা উন্নয়ন কাজে এবং ২২৮ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে। এ প্রকল্পে কিছু বহুতল ভবনও ভাঙার প্রয়োজন পড়বে। নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার মোড় থেকে সদরঘাট রাজ হোটেল পর্যন্ত কবি নজরুল ইসলাম সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। এ সড়ক সম্প্রসারণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০৩ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণে এবং বাকি অর্থ সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে। সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, সিডিএ নগরের যানজট নিরসনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ করবে। এসব প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ছাড়ের অপেক্ষায়। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।