রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় মাথার ওপর জটলা পাকিয়ে ঝুলছে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির অসংখ্য তার। কোনো পরিকল্পনা বা সমন্বয় ছাড়া বছরের পর বছর সংযোগ নেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ‘তারের জঞ্জাল’। নগরবাসীর অভিযোগ, এটি শুধু শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, বরং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছে।
নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল কলোনি, উপশহর, আলুপট্টি ও কাদিরগঞ্জ এলাকায় একই খুঁটিতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের তার এলোমেলোভাবে ঝুলতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় পরিত্যক্ত ও ছেঁড়া তার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। নিচু হয়ে থাকা তারে মাঝেমধ্যে ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান আটকে গিয়ে সংযোগ ছিঁড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির দিনে খোলা সংযোগ বা ছেঁড়া তার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া অগোছালো তারের জট শর্টসার্কিটের ঝুঁকি বাড়ায়, যা অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, ‘বহু সময় আগুন লাগার পেছনে অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংযোগ দায়ী থাকে।’
দায় ও সমন্বয়ের অভাব নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে আছে নেসকো ও রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি প্রতিষ্ঠান একই খুঁটি ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত নীতিমালা ও কার্যকর তদারকির অভাবেই সমস্যা প্রকট হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ও ঝুলন্ত তার অপসারণে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপন ও একক ব্যবস্থাপনায় আনার পরিকল্পনা আছে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন দোকানের সামনে মাথার ওপর ঝুলন্ত তার দেখে আতঙ্কে থাকি। ঝড়বৃষ্টিতে স্পার্ক হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। উপশহরের গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘শহরকে সুন্দর বলি, কিন্তু রাস্তার দিকে তাকালে মনে হয় তারের জঙ্গল। অন্তত পরিত্যক্ত তারগুলো অপসারণ করা উচিত।’ শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ‘অন্যান্য বড় শহরে অনেক জায়গায় ভূগর্ভস্থ কেবল হয়েছে। রাজশাহীতেও ধাপে ধাপে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’