খননের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জেলখালসহ সাতটি খাল আবারও ভরে গেছে। এসব খাল খননে গচ্চা গেছে কয়েক কোটি টাকা। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া কোনো খালেই পানি প্রবাহ নেই। এ কারণে সামনে বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ২০২৩ সালে নগরীর সাতটি খাল খননে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খালগুলো হলো- আমানতগঞ্জ, জেল খাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খাল। সাতটি খাল খননে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর খাল খননের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে খাল খনন কাজ শেষ হয়। নগরীর পোর্ট রোড মাছবাজার ও রসুলপুর কলোনিতে যাতাযাতের জন্য খেয়া নৌকার মাঝি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে শুকনো মৌসুম হওয়ায় খালে পানি থাকে না। যাত্রী পারাপারে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে বাজারে মাছ নিয়ে আসা নৌযানগুলো। স্পিডবোটেও মাছ নিয়ে পোর্ট রোড ঘাটে আসা যায় না। এ ছাড়াও নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা হাটখোলা, কলাপট্টি, ফড়িয়ারপট্টি, পিঁয়াজপট্টির ব্যবসায়ীদের পণ্য নিয়ে কোনো নৌযান আসতে পারে না। মাঝিরা আরও অভিযোগ করে বলেন, যখন খাল খনন করা হয়, তখন কোনো নজরদারি ছিল না। কোনোভাবে একটু ময়লা-আবর্জনা উঠিয়ে খালের পাশে রেখে দিয়েছিল। বৃষ্টিতে সেগুলো আবার খালে নেমে ভরাট হয়ে গেছে। একই অবস্থা আমানতগঞ্জ, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খালেরও। এসব খালে ময়লা-আবর্জনা জমে ভরাট হয়ে গেছে। বরিশাল বিভাগীয় নদী-খাল সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও বাপার বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, শুধু পোর্ট রোড খাল নয়, সব খালই ভরাট হয়ে গেছে। খালগুলো পরিকল্পিতভাবে খনন করা দরকার। তা না হলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, নতুন করে আমরা খাল খননের জন্য ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। অনুমোদন ও অর্থ পেলেই খালগুলো পরিকল্পিতভাবে খনন করা হবে।