রাজশাহী একসময় পরিচিত ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নীরব সৌন্দর্যের শহর হিসেবে। পদ্মার পাড়, পুরোনো মহল্লা, লাল ইটের দালান আর বৃক্ষশোভিত রাস্তা, সব মিলিয়ে শহরটির আলাদা এক সত্তা ছিল। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই পুরোনো রাজশাহী দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। জায়গা নিচ্ছে বহুতল ভবন, শপিং কমপ্লেক্স আর কংক্রিটের নতুন নগরায়ণ।
গত ১০ বছরে নগরীর কয়েকটি পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ইতিহাস ও স্মৃতি। বিশেষ করে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ভাঙার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, রাজশাহীতে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করার সুস্পষ্ট উদ্যোগ নেই। ফলে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুরোনো বাড়ি বা ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাঙতে আইনি বাধা খুব একটা কার্যকর হয় না।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন বলছে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্থাপনা রক্ষায় তাদের সরাসরি আইনি ক্ষমতা সীমিত। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, হেরিটেজ রক্ষায় নগর কর্তৃপক্ষ আগে থেকে উদ্যোগ নিলে অনেক পুরাতন ভবন রক্ষা করা যেত। এখন তেমন একটা নেই। যদি তেমন থাকে, সেগুলো রক্ষার চেষ্টা করা হবে।
হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, সংরক্ষণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। সিটি করপোরেশনের সেই উদ্যোগ না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো মহল্লার আবহ। তিনি আরও বলেন, সাহেববাজার, বোয়ালিয়া, হেতেমখাঁ, কাজিহাটা এসব এলাকায় একসময় দেখা যেত লাল ইটের দালান, নকশাদার বারান্দা, কাঠের দরজা-জানালা। এখন সেখানে একের পর এক উঠছে বাণিজ্যিক ভবন। শুধু বাড়ি নয়, হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক সম্পর্কও। আগে মহল্লা মানে ছিল এক ধরনের পারিবারিক বন্ধন। এখন সবাই আলাদা আলাদা ফ্ল্যাটে বন্দি।