কুমিল্লা নগরীর একটি গ্রাম লক্ষ্মীনগর। গ্রামের মাঠের পাশে দৃষ্টিনন্দন বাংলো বাড়ি। সেই বাড়িতে গড়ে উঠেছে পশুর খামার। ২০১৭ সালে গড়ে ওঠা খামার এখন রূপ নিয়েছে চিড়িয়াখানায়। কারণ এখানে নানা জাতের পশুর সঙ্গে রয়েছে মরুভূমি জাহাজ খ্যাত উট। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাফি এগ্রো ফার্মে দর্শনার্থীর ভিড় জমে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উটকে ফার্মের বাইরে রাখা হয়েছে। পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করছেন কর্মচারীরা। উচ্চতায় ১০ ফুট ছাড়িয়ে। উচ্চতা একটি ভবনের প্রথমতলার সমান প্রায়। পরিষ্কারের পর বেঁধে রাখা হয় বাড়ির সড়কের ওপর। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণরা বিস্ময়চোখে উট দেখছেন। কেউ ধরে দেখছেন, কেউ উটের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। উটও সেলিব্রেটির মতো চুপচাপ ছবি তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। এদিকে খামারে রয়েছে শতাধিক বিক্রিযোগ্য দেশি-বিদেশি গরু। যার দাম ৮০ হাজার থেকে ৭ লাখ টাকা। রয়েছে গয়াল ও মহিষ।
দর্শনার্থী সাইফুল হাসান শুভ, পারভেজ হোসেন অনীক ও মো. রিফাত বলেন, সিনেমা নাটকে উট দেখেছি। কুমিল্লায় এর আগে উট দেখিনি। আরবের মরুভূমিতে এই উটের বসবাস। আজ উট সামনে থেকে দেখা ও ছুঁয়ে দেখতে পেরে ভালো লাগছে।
পরিচর্যাকারী সুমন ইসলাম বলেন, উট বালু ও রোদ পছন্দ করে। প্রথমে আমরা আশঙ্কায় ছিলাম কীভাবে এর পালন করব। কিন্তু দেখলাম উট শান্ত প্রকৃতির। ভুট্টা, গম ও ঘাস খাওয়াই। দৈনিক ৪০ লিটারের মতো পানি খায়। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক লোক ফার্মে উট দেখতে ভিড় করেন।
রাফি এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহাম্মদ বলেন, আমাদের খামারে বৈচিত্র্যপূর্ণ পশু রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- গয়াল, দেশি-বিদেশি প্রজাতির গরু ও মহিষ। এবার আমরা রাজস্থানের উট সংগ্রহ করেছি। উটের ওজন ৯০০ কেজির ওপরে। প্রতিদিন লাইন ধরে দর্শনার্থীরা দেখতে আসছেন। তিনি আরও বলেন, বড় জায়গা নিয়ে বাংলাদেশেও উটের খামার করা যেতে পারে। তবে প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষকে আরও আন্তরিক হতে হবে। ২০১৭ সালে আমরা খামার করেছি। আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তা আমাদের খামার দেখতে আসেননি, আমরা ফোন করেও তাদের পাই না।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, গরুসহ বিভিন্ন পশুর চিকিৎসাসেবা আমরা নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। রাফি এগ্রো ফার্ম কার কাছে সেবা চেয়ে পায়নি তার লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।