অনেকেরই বাহু, ঊরু বা গালের ত্বকে হাত দিলে মনে হয় যেন ছোট ছোট দানা পেকে আছে। দেখতে অনেকটা লোম ছাড়ানো মুরগির চামড়ার মতো বলে একে ডাকা হয় ‘চিকেন স্কিন’। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘কেরাটোসিস পিলারিস’। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়; এতে কোনো ব্যথা বা চুলকানি থাকে না। তবে দেখতে দৃষ্টিকটু হওয়ায় এটি অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ...
আসুন জেনে নিই কেন আমাদের ত্বক এমন হয়ে যায় এবং এর থেকে পরিত্রাণের সহজ উপায়গুলো কী।
কেন হয় এই ‘চিকেন স্কিন’?
আমাদের ত্বকে ‘কেরাটিন’ নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে; যা ত্বককে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু যখন শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় কেরাটিন তৈরি হতে শুরু করে, তখন তা লোমকূপের মুখ বন্ধ করে দেয়। ফলে সেখানে ছোট ছোট শক্ত দানার সৃষ্টি হয়। শীতকালে ত্বক যখন অতিমাত্রায় শুষ্ক হয়ে যায়, তখন এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। মূলত বংশগত কারণ, অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, একজিমা কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে (বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় বা টিনএজারদের ক্ষেত্রে) এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়।
সমাধান আপনার হাতেই
চিকেন স্কিন সম্পূর্ণ সারিয়ে ফেলার কোনো জাদু নেই, তবে সঠিক যত্নে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ। সাধারণত বয়স ৩০ বছর হওয়ার পর এটি এমনিতেই কমে যায়। তবে এর আগে ঘরোয়া কিছু অভ্যাস বদলে নিতে পারেন :
♦ খুব গরম পানিতে দীর্ঘ সময় গোসল করলে ত্বক তার স্বাভাবিক তেল হারিয়ে ফেলে। তাই সব সময় ঈষদুষ্ণ বা কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়ে গোসল সারুন। এটি আপনার লোমকূপের গোড়া নরম রাখতে সাহায্য করবে।
♦ ত্বকের মৃত কোষগুলো পরিষ্কার করা জরুরি। তবে বাজারের চলতি রাসায়নিক স্ক্রাবারের চেয়ে লুফা বা প্রাকৃতিক উপাদানে (যেমন চাল বা ডালের গুঁড়া) আলতো করে স্ক্রাব করা ভালো। এতে লোমকূপের মুখ খুলে যাবে।
♦ চিকেন স্কিনের প্রধান শত্রু হলো শুষ্কতা। তাই গোসলের পরপরই যখন ত্বক কিছুটা ভেজা থাকে, তখনই ভালো কোনো হাইড্রেটিং লোশন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ভালো।
♦ অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক ত্বকের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে, চিকেন স্কিনকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ঢিলেঢালা এবং সুতির পোশাক বেছে নিন। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।