আপনি যদি নিষ্ঠার সঙ্গে ১০-ধাপের কে-বিউটি রুটিন অনুসরণ করেন, তবে জেনে অবাক হবেন যে, জাপানিজ স্কিন-কেয়ার পদ্ধতিও অনেকটা একই রকম- তবে এর নিজস্ব দর্শন ও বিশেষ উপাদানের ব্যবহার রয়েছে। যেখানে ট্রেন্ড বা চলতি ধারার বদলে ঐতিহ্যের গুরুত্ব বেশি থাকে।
জে-বিউটি রুটিনের গঠন আপনার কাছে পরিচিত মনে হতে পারে, তবে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর জেন ইউ ব্যাখ্যা করেন যে, জাপানিজ স্কিন-কেয়ারে হাইড্রেশন বা আর্দ্রতা ভারী পণ্যের ওপর নির্ভর না করে ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রথমে হালকা লোশন ও এসেন্স লাগানো হয়, তারপরে ক্রিম বা ইমালশন ব্যবহার করা হয়।’ যা ত্বককে চটচটে না করে গভীর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখে।
ধাপ-১ অয়েল ক্লিনজার (সকাল + রাত) : ডক্টর ইউ-এর মতে, জাপানিজ রূপচর্চার প্রথম ধাপ হলো অয়েল ক্লিনজিং। এটি সানস্ক্রিন, মেকআপ এবং দূষণ দূর করে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বজায় রাখে।
ধাপ-২ ওয়াটার-বেসড ক্লিনজার (সকাল + রাত) : জাপানিরা ‘ডাবল ক্লিনজিং’ করে। অয়েল ক্লিনজার মেকআপ ও তেল দূর করার পরে, ওয়াটার-বেসড ক্লিনজার ঘাম ও ধুলোবালি পরিষ্কার করে। যা ত্বককে শুষ্ক না করেই গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং পরবর্তী ধাপের পণ্যগুলোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
ধাপ-৩ এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্র্যাবিং (সপ্তাহে দুবার) : জাপানিজ রুটিনে এক্সফোলিয়েশন অনেক বেশি কোমল। এমা জিন বলেন যে, তারা পশ্চিমা ব্র্যান্ডের মতো উচ্চ মাত্রার AHA ev BHA ব্যবহার না করে বরং চালের কুঁড়া সমৃদ্ধ স্ক্রাব পছন্দ করেন। যা সাধারণত মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ করে।
ধাপ-৪ লোশন (সকাল) : ডক্টর ইউ বলেন, ‘জাপানিজ স্কিন-কেয়ারে টোনারকে ‘লোশন’ বলা হয়। এর কাজ ত্বককে হাইড্রেট করা।’ মুখ ধোয়ার পর ত্বকের যে- পানি হারিয়ে যায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করে।
ধাপ-৫ এসেন্স (সকাল) : এসেন্স হলো হালকা স্তরের ট্রিটমেন্ট যা ত্বককে ভারী না করেই আর্দ্রতা জোগায়। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি লোশন এবং সিরামের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে।
ধাপ-৬ সিরাম (সকাল + রাত) : ত্বকের ধরন অনুযায়ী সিরাম নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করে- যেমন কালো দাগ, নিস্তেজ ভাব বা পানিশূন্যতা। জাপানিজ সিরাম সাধারণত চাল, সামুদ্রিক ভেষজ বা গ্রিন টি- প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি।
ধাপ-৭ হালকা ময়েশ্চারাইজার (সকাল + রাত) : আগের ধাপগুলোর মাধ্যমে পাওয়া আর্দ্রতা ত্বকে আটকে রাখাই এর কাজ। জাপানি ময়েশ্চারাইজার এমনভাবে তৈরি যা চটচটে ভাব ছাড়াই হাইড্রেশন দেয়।
ধাপ-৮ ভারী ময়েশ্চারাইজার (সকাল + রাত) : একে বলা হয় ‘ডাবল ময়েশ্চারাইজিং’। হালকা ময়েশ্চারাইজারের পর একটি ক্রিম বা কিছুটা ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয় যেন ভিতর থেকে আর্দ্রতা কোনোভাবেই বেরিয়ে যেতে না পারে।
ধাপ-৯ সানস্ক্রিন (সকাল) : ত্বকে বয়সের ছাপ কিংবা বার্ধক্য রোধের সবচেয়ে বড় একটি হাতিয়ার হলো- সানস্ক্রিন। জাপানে সানস্ক্রিন কেবল সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার জন্য নয়, বরং সারা বছর ব্যবহারের একটি জরুরি অভ্যাস হিসেবে দেখা হয়। জাপানিজ সানস্ক্রিনগুলো ওজনে হালকা এবং নন-স্টিকি হয়, যা প্রতিদিন ব্যবহারের উপযোগী।
লেখা : সাদিয়া সারা