অনেকের কাছে মেকআপ তুলে ঘুমানো শুদু ‘বিউটি টিপস’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, এটি আসলে অপরিহার্য স্বাস্থ্যবিধি। আপনি যখন মেকআপ নিয়ে ঘুমান, তখন আপনার ত্বক কেবল শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে না, বরং চোখও পড়ে ঝুঁকির মুখে।
আমাদের শরীরের মতো ত্বকেরও একটি নিজস্ব রুটিন আছে। সারা দিন রোদ, ধুলো আর মেকআপের ধকল সয়ে রাতের বেলা ত্বক যখন নিজেকে মেরামতের কাজ শুরু করে, ঠিক তখনই আপনি যদি ময়লা আর মেকআপের আস্তরণ রেখে দেন, তবে সে দরজাটি বন্ধ হয়ে যায়।
♦ রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া: জমে থাকা তেল ও প্রসাধনী থেকে ব্রণ তৈরি হয়।
♦ নিষ্প্রভ ত্বক : ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নতুন করে জন্মাতে পারে না। ত্বক কালচে দেখায়।
♦ অকাল বার্ধক্য : কোলাজেন ভেঙে গিয়ে দ্রুত বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়ে।
ত্বকের ক্ষতি তবুও দৃশ্যমান, কিন্তু চোখের ক্ষতিটা অনেক সময় বুঝতে দেরি হয়ে যায়। চক্ষু বিশেষজ্ঞ অ্যাশলি ব্রিসেটের মতে, ‘মেকআপের ক্ষুদ্র কণাগুলো ঘুমের মধ্যে ভেঙে চোখের পাতার নিচে বা ভাঁজে ঢুকে পড়তে পারে।’ তিনি আরও জানান, ‘বহু রোগীর চোখ থেকে তিনি মাসকারার শক্ত কণা বা গ্লিটার বের করেছেন, যা চোখের ভিতরে গেঁথে ছিল। এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ।’
♦ এই ক্ষুদ্র কণাগুলো চোখের উপরিভাগে সূক্ষ্ম আঁচড় তৈরি করে, যা থেকে মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে।
♦ সাধারণ জ্বালা বা লালচে ভাব থেকে শুরু করে চোখ ফুলে যাওয়া, এমনকি সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
তা ছাড়া মেকআপ তোলা কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও হতে পারে একটি ইতিবাচক অভ্যাস।
♦ ভালো ঘুম : মুখ সতেজ থাকলে ঘুমের গভীরতা বাড়ে।
♦ আত্মবিশ্বাস : পরদিন সকালে উঠে আয়নায় একটি প্রশান্ত ও উজ্জ্বল চেহারা দেখা দিনের শুরুটাকে অনেক বেশি ইতিবাচক করে তোলে।
কী করবেন? (ঝটপট সমাধান)
১. বিছানায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে, কাপড় বদলানোর সময় বা বাসায় ফিরে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। এতে রাতে আলসেমির সুযোগ থাকবে না। ২. চোখের চারপাশ পরিষ্কার করার জন্য আলাদা ‘আই মেকআপ রিমুভার’ ব্যবহার করা ভালো, যাতে কোনো সূক্ষ্ম কণা অবশিষ্ট না থাকে।
৩. ভারী মেকআপ থাকলে প্রথমে অয়েল-বেসড ক্লিনজার এবং পরে ওয়াটার-বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
লেখা : উম্মে হানি