সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের চেহারাটাকেই বড্ড ক্লান্ত মনে হয়। ক্লিনিং বা ময়েশ্চারাইজিং তো আমরা রোজই করি, কিন্তু ত্বকের যখন বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়, তখন ‘ফেস মাস্ক’ ঠিক ‘পাওয়ার বুস্ট’ বা এক কাপ কড়া ‘এসপ্রেসো শট’-এর মতো কাজ করে। অল্প সময়েই ত্বকের প্রাণহীন ভাব দূর করে উজ্জ্বলতা ফেরাতে এর জুড়ি মেলা ভার। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সাধারণ স্কিনকেয়ার রুটিনের ফাঁকে সপ্তাহে অন্তত একদিন একটি সঠিক ফেস মাস্ক ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের পরিবর্তন হবে চোখে পড়ার মতো।’
লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ এ সম্পর্কে একটি ফিচার প্রকাশ করেছে। যা আপনার ত্বকের ধরন এবং চাহিদা অনুযায়ী সেরা মাস্কটি খুঁজে নিতে সাহায্য করবে।
যাঁদের ত্বক প্রায়ই শুষ্ক হয়ে যায়, তাঁদের জন্য চ্যানেল হাইড্রা বিউটি ক্যামেলিয়া রিপেয়ার মাস্ক হতে পারে পরম বন্ধু। এতে থাকা গ্লিসারিন, ক্যামেলিয়া এক্সট্র্যাক্ট এবং শিয়া বাটার ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয়। চাইলে এটি বাল্মি ক্রিমের মতো সারারাত লাগিয়ে রাখতে পারেন অথবা অবসর সময়ে ১৫ মিনিট ব্যবহার করতে পারেন। সাশ্রয়ী দামে হাইড্রেটিং মাস্ক পেতে বেছে নিন নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট হাইড্রোজেল মাস্ক। এটি হায়ালুরোনিক অ্যাসিডে ভরপুর, যা তৃষ্ণার্থ ত্বকে নিমিষেই প্রাণ ফিরিয়ে আনে।
আজকাল টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই একটি মাস্কের জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে- সেটি হলো বায়োড্যান্স বায়ো-কোলোজেন রিয়েল ডিপ মাস্ক। এই কে-বিউটি মাস্কটি ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়িয়ে পোরস বা লোমকূপ ছোট করতে সাহায্য করে। মজার ব্যাপার হলো, এটি মুখে লাগিয়ে ঘুমানো যায় এবং যখন মাস্কটি সাদা থেকে স্বচ্ছ হয়ে যায়, তখনই বোঝা যায় ত্বক সব পুষ্টি শুষে নিয়েছে। রাতে ত্বকের সুরক্ষা দেয়াল বা ব্যারিয়ার মজবুত করতে ল্যানেজি বাউন্সি অ্যান্ড ফার্ম স্লিপিং মাস্কের জুড়ি নেই। হুইপড ক্রিমের মতো এই জেল-মুজ মাস্কটি আপনাকে দেবে শিশিরভেজা সতেজ লুক, আর এটি বালিশে লেগে যাওয়ার ভয়ও নেই।
বড় অনুষ্ঠান বা পার্টি? হাতে সময়ও কম! মেকআপ আর্টিস্টদের প্রিয় স্কিন রোজ গোল্ড ব্রাইটেনিং ফেসিয়াল ট্রিটমেন্ট মাস্ক ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কোলোইডাল গোল্ড ও পেপটাইড সমৃদ্ধ এ মাস্কটি ত্বককে নিখুঁত ও উজ্জ্বল করতে অতুলনীয়। পাশাপাশি মৃত কোষ দূর করে সতেজভাব পেতে চাইলে টাটা হার্পার রেজারফেসিং মাস্ক জাদুর মতো কাজ করে। ডালিম এনজাইম এবং পিঙ্ক ক্লে সমৃদ্ধ এই জেল মাস্কটি ১৫ মিনিটে মলিন ত্বকে ফিরিয়ে আনবে দ্যুতি।
যাঁদের ত্বকে তেলের আধিক্য বেশি এবং ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য কেলস রেয়ার আর্থ ডিপ পোর মিনিমাইজ ক্লেনজিং ক্লে মাস্ক বেছে নিন। এর কাওলিন ও বেন্টোনাইট ক্লে ভিতর থেকে ময়লা শুষে নেয়, অ্যালোভেরা নিশ্চিত করে যেন ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়।
যাঁদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তাঁদের জন্য স্কিনকিউটিক্যাল কায়ো-কোলোজেন রিস্টোরেটিভ মাস্ক সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। এতে কেবল বায়োসেলুলোজ ফাইবার এবং পানি ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে কোনো জ্বালাপোড়া হওয়ার ভয় নেই। এটি ত্বককে শান্ত করে এবং আর্দ্রতা জোগায় কোনো রকম অস্বস্তি ছাড়াই।
লেখা : রেদোয়ান আহমেদ