রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনা কোন দেশে কী হাল

সা ই ফ ই ম ন

করোনা কোন দেশে কী হাল

করোনায় গত বছর গোটা বিশ্বের ভয়াবহ পরিস্থিতি এ বছরও দেখা দিয়েছে। কিন্তু গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশগুলো এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তাই কোথাও কোথাও পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে থাকলেও অনেক জায়গাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আজকের রকমারি...

 

নিয়ন্ত্রণ রয়েছে নিউজিল্যান্ডে

করোনা মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ড অনেকটাই সফল। দেশটিতে চলছে দোকানপাট, অফিস-আদালত, শপিং মল, সিনেমা হল। গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার সঙ্গে লড়াই শুরু করে নিউজিল্যান্ড। এরপর মার্চ থেকে সীমান্ত বন্ধ করে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সেখানে করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক-দুই দিন পর কয়েকজনের করোনা পাওয়া যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কীভাবে তারা করোনা যুদ্ধে জয়ী হলো? তার একটাই কারণ কঠোর লকডাউনে ছিল দেশটি।

 

যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের গড় স্থিতিশীল

জানুয়ারিতে বলা হয়েছিল, নতুন ধরনের করোনাভাইরাস তুলনামূলক বেশি সংক্রামকই শুধু নয়, বেশি প্রাণহানিরও কারণ হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেই এমন তথ্য জানিয়েছিলেন। তারপরই দেশজুড়ে আবারও সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়। যার ফল তারা পেয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫২ হাজারের উপরে সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে বর্তমানে ভালো অবস্থানে দেশটি।

 

জার্মানি বিপজ্জনক মাত্রায় 

জার্মানিতে করোনার সংক্রমণ আবারও সরকারের নির্ধারিত বিপজ্জনক মাত্রা স্পর্শ করেছে। হামবুর্গে নেমে এসেছে কড়া লকডাউন। অন্যান্য জায়গাতেও কড়াকড়ি বাড়তে হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রতি লাখে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি। বিদেশ থেকে কেউ জার্মানিতে এলে তাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইনে পাঠানোর হচ্ছে। এদিকে সংক্রমণ কমাতে আরও কড়া নিয়ম চালু হয়েছে বার্লিনে। ১৫ কিলোমিটারের বেশি যাতায়াত করা যাবে না। টানা এক সপ্তাহ দৈনিক করোনার সংখ্যা ২০০’র নিচে না নামা পর্যন্ত এ নিয়ম বহাল থাকবে। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, এর ফলে কোনো লাভ হবে না।

বার্লিনে সাধারণত দুটি লাইনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এক. শহরকে ঘিরে থাকা হাইওয়ে এবং দুই. রিজিওনাল ট্রানজিট লাইন। এই দুইয়ের বাইরে এবার একটি করোনা লাইন তৈরি করা হলো। বার্লিন প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের বাইরে ১৫ কিলোমিটারের বেশি যাতায়াত করা যাবে না। পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। জার্মানিতে লকডাউনে নতুন নিয়ম অনুযায়ী করোনাভাইরাসের হটস্পটের বাসিন্দারা তাদের শহর থেকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া ডে ট্রিপ বা একদিনে কোথাও গিয়ে সেদিনই আবার ফেরার মতো দূরত্বেও যেতে পারবেন না। গত ডিসেম্বরেই জার্মানিতে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেটিকে মৃদু লকডাউন বলা হয়েছিল। ১০ জানুয়ারি কড়াকড়ি শুরু হয়। কারণ, আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু তাতেও বার্লিনে বিশেষ লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই নতুন নিয়ম বলবৎ করতে হয়েছে।

 

চীনে সংক্রমণ কম

চীনে করোনা সংক্রমণ স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক বিশেষজ্ঞ দলের সফরের সময়ে চীনের মাঞ্চুরিয়া অঞ্চলে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ার খবর দিয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে জানুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনের বেশি করোনায় সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যেত সেখানে এখন সংক্রমণের হার কমে এসেছে গড়ে ২০ জনে। লকডাউনসহ একাধিক কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টায় সফলতা পেয়েছে চীন। বিশ্বের অনেক দেশই করোনা সংকটের ধাক্কা একবার সামলাতে পেরেও সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। চীনেই প্রথম বড় আকারে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার পরও কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল।

 

আমেরিকায় কমছে আক্রান্তের সংখ্যা 

আমেরিকায় গত জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল আড়াই লাখের বেশি। এপ্রিলের শুরুতে এই আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজারে। নতুন ধরনের করোনাভাইরাস আমেরিকায় এসেছে আগেই। তাই দেশটির সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে, সাধারণ করোনা থেকে এ ভাইরাসটি ৭০ শতাংশ দ্রুত ছড়ায়। তবে সাধারণ করোনাভাইরাসের চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক নয় এই ভাইরাস। নতুন এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.১.৭। আমেরিকা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাহিল হলেও এখন করোনার প্রকোপ অনেকটাই কমে এসেছে। যদিও এখনো প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যু হয়েছে কয়েক লাখ।

 

ভারতে শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী

ঊর্ধ্বমুখী ভারতে করোনা শনাক্তের হার। দেশটিতে একদিনেই ৭২ হাজার ৩৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গত অক্টোবরের পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড। নতুন করে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭৩ হাজার জন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখেরও বেশি। এর আগে গত বছরের ১১ অক্টোবর ৭৪ হাজার ৩৮৩ জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। এমন এক সময় এ আক্রান্তের খবর এসেছে, যখন দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে। এই ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৪৫ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সী ভারতীয়দের টিকা দেওয়ার।

 

সৌদিতে নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র রমজান মাস আসছে। করোনা পরিস্থিতিতে রমজান মাসে শিশুদের মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে সৌদি আরবের বড় বড় মসজিদে। ইতিমধ্যে মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ করোনা সংক্রমণ রোধে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মসজিদ নববী ও এর চত্বরে প্রবেশে বারণ করা হয়। আধা ঘণ্টার মধ্যে তারাবির নামাজ সংক্ষিপ্তাকারে শেষ করতে হবে এবং তারাবি নামাজের ৩০ মিনিট পর মসজিদ বন্ধ করতে হবে। গত বছরের মতো এ বছরও পবিত্র রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদের অভ্যন্তরে ইতিকাফ করা যাবে। আর মসজিদের ভিতর বা চত্বরে সাহরি বা ইফতারি বিতরণ বা জমায়েত করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগতভাবে সবার জন্য ইফতারি হিসেবে খেজুর ও পানীয়র ব্যবস্থা থাকবে।  

 

কানাডায় সীমান্ত বন্ধ অব্যাহত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কানাডা আমেরিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার সীমান্ত পারাপার বন্ধের মেয়াদ আরও এক মাসের জন্য বাড়িয়েছে। গত বছর ১৮ মার্চ থেকে দেশটির সীমান্ত পারাপার বন্ধ রয়েছে। প্রতি মাসে এই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে ১২ বার সীমান্ত পারাপার বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হলো। আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকলেও অপরিহার্য বাণিজ্য, জরুরি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, বিমান পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা, ট্রাকচালক, চিকিৎসা সামগ্রীসহ জরুরি মালামাল পরিবহন অব্যাহত থাকবে। করোনা মহামারী শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ মানুষ চলাচল করত। করোনার কারণে প্রায় এক বছর এই সীমান্ত বন্ধ থাকায় দুই দেশের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছে। এতে অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কানাডা থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ভ্রমণে মিশিগান আসেন। এটি বন্ধ থাকায় মিশিগানের পর্যটন খাতে এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ১৬৭টি স্থলসীমান্ত পারাপার প্রায় এক  বছর থেকে বন্ধ রয়েছে।


পরিস্থিতির অবনতি যে দেশগুলোতে

অস্ট্রিয়ায় কঠোর লকডাউন

অস্ট্রিয়ার তিন রাজ্যে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১ থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউনে থাকবে অস্ট্রিয়ার তিনটি রাজ্য। রাজ্য তিনটি হলো- ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং বুর্গেনল্যান্ড। জানা যায়, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং বুর্গেনল্যান্ড রাজ্যের হাসপাতালের আইসিইউতে করোনা রোগীর সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় কঠোর লকডাউনের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। লকডাউনের সময় সব ধরনের শপিং মল, বিউটি পার্লার, সেলুন বন্ধ থাকবে। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকানগুলো খোলা থাকবে। এছাড়া অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে জনসম্মুখে সবার জন্য এফএফ-২ মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গৃহ কিংবা গৃহের বাইরে বৈঠকের জন্য ১+১ বিধি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এক ব্যক্তি শুধু একজনের সঙ্গেই বৈঠক করতে পারবেন।

 

বিপর্যস্ত ব্রাজিল

ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে করোনার থাবা দিন দিন বেড়েই চলছে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু রেকর্ডহারে বেড়েছে। দেশটিতে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৮ জনের, একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ। অনেক আগে থেকে ব্রাজিলে করোনার প্রকোপ বাড়লেও এখন তা পিছনের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এরই মধ্যে দেশটি করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের দিক দিয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ২৬ লাখের বেশি। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন তিন লাখের উপরে।

 

ফ্রান্সে দ্রুত বাড়ছে

বছরের শুরুতে ফ্রান্সে করোনার প্রকোপ কমে এসেছিল। জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯ হাজারের কিছু বেশি। এপ্রিলের শুরুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৩৮ হাজার। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ বলেন, মহামারীর প্রত্যেকটি পর্যায়ে হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিবার ভুল শুধরে নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে নিয়ন্ত্রণ আর হাতে থাকবে না।

উল্লেখ্য, দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতির স্বার্থে মাক্রোঁ এতদিন তৃতীয় লকডাউন নিতে দ্বিধা করছিলেন। নতুন কড়াকড়ির আওতায় এখন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান বাজার ছাড়া বাকি সব বিপণি বন্ধ রাখা হচ্ছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে কারফিউ চালু হয়েছে। মানুষ নিজের বাসা থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত কার্যত বন্ধ রাখা হচ্ছে। সারা দেশে তিন সপ্তাহের জন্য স্কুল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।


করোনামুক্ত দেশ

ভিয়েতনাম

নয় কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ভিয়েতনাম। সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজারের কিছু বেশি এবং মৃতের সংখ্যা ৩৫। দেশটিতে সব কিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে। ভিয়েতনাম শুরুর দিকেই সংক্রমণের হার যখন কম ছিল, তখনই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। যখন দেশটিতে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি তখনই ভিয়েতনাম সরকার কঠোরভাবে করোনা মোকাবিলা শুরু করে। শুরু করে দেয় তারা জরুরিকালীন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা, চীনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পর্যবেক্ষণ কঠোর করে এবং কিছুদিনের মধ্যে সীমান্তপথে চলাচল বন্ধ করে দেয়। সীমান্ত এবং অন্যান্য নাজুক জায়গাগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়িয়ে দেয়। কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করে কার সংস্পর্শে কারা এসেছে তা খুঁজে বের করতে ব্যাপক জনশক্তি নিয়োগ করে। বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে আগত যাত্রীদের সোজা নিয়ে যাওয়া হয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। এ ছাড়া রোগের লক্ষণ নেই কিন্তু জীবাণু বহন করছে তাদের থেকে সুরক্ষা পেতে ব্যাপক পরিসরে মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।

 

তাইওয়ান

গড়ে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা এক থেকে দুজন। করোনায় তাইওয়ানের সাফল্যের পিছনে আছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা আর নিখুঁত পরিকল্পনা। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন সাতজন। আর তারা কখনো পুরোপুরি লকডাউনেও যায়নি। এ সাফল্যের জন্য তাইওয়ান মাস্ক পরার প্রবণতাকে কৃতিত্ব দিচ্ছে। দেশটির প্রতিটি নাগরিককে দেওয়া হয় জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা কার্ড, যাতে অতি কম খরচে অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুবিধা পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে সার্স কোভ ছড়িয়ে পড়া থেকেই শিক্ষা নিয়েছে তাইওয়ান। ঢেলে সাজিয়েছিল তার স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিসি)। জানুয়ারির প্রথমেই তাইওয়ানের সিডিসি আগের ১৪ দিনে চীনের উহান ভ্রমণকারী যাদের জ্বর বা শ্বাসনালির সংক্রমণের লক্ষণ ছিল এবং কভিড পজিটিভ ধরা পড়ে, তাদের আলাদা করে রেখে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছিল। দ্রুততার সঙ্গে সিডিসি সক্রিয় করেছিল সেন্ট্রাল এপিডেমিক কমান্ড সেন্টার (সিইসিসি)। ফেব্রুয়ারির প্রথমেই দেশব্যাপী মাস্কের রেশনিং শুরু করা হয়, যাতে কেউ তা মজুত না করতে পারে। এ সবই এমন সময়ে করে, যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে মহামারী হিসেবে ঘোষণাই করেনি। তাইওয়ান এটা করেছিল অত্যন্ত সচেতনভাবে, নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করে। ফেব্রুয়ারি থেকেই তাইওয়ানের প্রতিটি জায়গায় শুরু হয়ে যায় থার্মাল স্ক্যানিং। ২৪ মার্চ থেকে সব আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

তানজানিয়া

পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া গত বছর মে মাস থেকেই নিজেদের করোনামুক্ত ঘোষণা করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জন ম্যাগুফুলি রাজধানী দোদোমার একটি চার্চে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘দেশ মহামারী করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।’ তানজানিয়ার দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৫০৯ জন।

 

ভ্যাটিকান সিটি

রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের তীর্থভূমি ভ্যাটিকান সিটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর থেকেই কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব মানা শুরু হয়। ১০৮ একরের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটির যেসব কর্মচারী স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন তার বেশিরভাগই ইতালির নাগরিক। ইতালিতে করোনা ছড়ানোর পর ভ্যাটিকানে স্বাস্থ্যবিধি মানায় কঠোরতা দেখা যায়। মাত্র ১২ জন করোনা রোগী পাওয়া যায় এখানে।  গত বছর অক্টোবর থেকেই এখানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য।

 

নেপাল ও ভুটান

করোনায় নেপাল ও ভুটানের চিত্র অবাক করবে। দুটি দেশেই গত বছর ডিসেম্বর থেকে করোনার সঙ্গে লড়াই করে দারুণ সফল। জানুয়ারি থেকে কমতে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা। নেপালে কিন্তু কোথাও কোথাও এখনো আক্রান্ত হচ্ছে তবে তা নিয়ন্ত্রণেই। আক্রান্তের সংখ্যাও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। নেপাল শুরু থেকেই আক্রান্ত ও এর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যেককে কড়া নজরদারির মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সীমান্তে গড়ে তোলা হয়েছে হেল্প ডেস্ক। করোনা মোকাবিলায় নজির তৈরি করেছে ভুটান। বিশেষত গণস্বাস্থ্য কর্মসূচি ও জীবাণুনাশক ছিটিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধে দারুণ সফল ছোট্ট দেশটি। গত ফেব্রুয়ারির পর ভুটানে আক্রান্তের সংখ্যা ছির শূন্য।এপ্রিলের ১ তারিখে আবারও নতুন করে ১৩ জনের আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। আর দেশটিতে মাত্র একজনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

এই রকম আরও টপিক