৭ মার্চ, ১৯৭৩
প্রথম সংসদ নির্বাচন
জাতীয় সংসদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি মো. ইদ্রিস। আওয়ামী লীগসহ মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রদত্ত ভোট ছিল ১ কোটি ৮৮ লাখের বেশি (৫৫.৬২ শতাংশ)। ১২০ জন নির্দলীয় প্রার্থীসহ ১ হাজার ৭৮ জন প্রার্থী ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ ১১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ ২৯৩টি লাভ করে। বাকি সাতটি আসনের মধ্যে জাসদ একটি, জাতীয় লীগ একটি এবং নির্দলীয় প্রার্থীরা পাঁচটি আসন লাভ করেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পুনরায় সরকার গঠন করে। এ সংসদ স্থায়ী ছিল আড়াই বছর।
১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯
দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নুরুল ইসলামের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ কোটি ৩৪ হাজার ৭১৭ জন এবং নারী ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫২২ জন। ভোট দেন ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৬ হাজার ১২৪ জন (৫০.৯৪ শতাংশ)। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ১২৩ জন। বিএনপি ২৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হয় ২০৭ আসনে। দলটির ভোটপ্রাপ্তি ছিল ৪১.১৬ শতাংশ।
আওয়ামী লীগ (মালেক) ২৯৫ আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়ী হয় ৩৯টিতে। আওয়ামী লীগ (মিজান) ১৮৪ আসনে প্রার্থী দিয়ে পায় দুই আসন। জাসদ ২৪০ আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়ী হয় আটটিতে। মুসলিম লীগ ও ডেমোক্র্যাটিক লীগ ২৬৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে পায় ২০টি আসন। অন্য দলগুলোর মধ্যে ছয়টি দল আটটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসন লাভ করেন। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি পুনরায় সরকার গঠন করে। এ সংসদ স্থায়ী হয় তিন বছর। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এইচ এম এরশাদ সামরিক শাসন জারি এবং এ সংসদ ভেঙে দেন।
৭ মে, ১৯৮৬
তৃতীয় সংসদ নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ১৯৮৪ সালের ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট নির্বাচন বয়কট করে। বিচারপতি এ টি এম মাসউদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে এরশাদের জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ ১১টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ১২৪ জন। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে পায় ১৫৩টি আসন।
আওয়ামী লীগ ২৫৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়ী হয় ৭৬টিতে। জামায়াত ৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হয় ১০টিতে। অন্য আটটি দল ৩৩ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩২টি আসন পান। ক্ষমতাসীন এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করে। মোট ভোটার ছিলেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৯ জন। ভোট দেন ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩ হাজার ৮৮৯ জন (৬০.৩১ শতাংশ)। গঠিত সংসদ টিকেছিল ১৭ মাস। ১৯৮৭ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদ সংসদের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন।
৩ মার্চ, ১৯৮৮
চতুর্থ সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ বিচারপতি এ টি এম মাসউদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট ও বিএনপির খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৮টিসহ ২৫১ আসন, আ স ম রবের সম্মিলিত বিরোধী দল ১৯টি, জাসদ (শাজাহান সিরাজ) তিনটি, ফ্রিডম পার্টি দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৫টি আসন লাভ করে।
এ ফলাফল মানুষ প্রত্যাখ্যান করে এবং ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টিকে হটাতে গণআন্দোলন শুরু হয়। গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করেন। প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এ সংসদ স্থায়ী হয়েছিল দুই বছর সাত মাস।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১
পঞ্চম সংসদ নির্বাচন
বিচারপতি মো. আবদুর রউফের নির্বাচন কমিশন প্রথমে পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে ১৯৯১ সালের ২ মার্চ। কিন্তু এদিন শবেবরাত হওয়ায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪০ আসন, আওয়ামী লীগ ২৬৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৮৮ আসন, জাতীয় পার্টি ২৭২ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩৫ আসন এবং জামায়াতে ইসলামী ২২২ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১৮টি আসনে জয় লাভ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ মোজাফফর) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি, এনডিপি একটি, জাসদ (শাজাহান সিরাজ) একটি আসন লাভ করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। ভোট প্রদানের হার ছিল ৫৫.৪৫ শতাংশ।
এই সংসদে ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ১২তম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে। এ সংসদ স্থায়ী ছিল চার বছর আট মাস।
১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬
ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি, ফ্রিডম পার্টিসহ ৪২টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। ভোট প্রদান করেন মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার। বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৮টি আসন লাভ করে পুনরায় সরকার গঠন করে। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। ফ্রিডম পার্টি একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০টি আসন পান। ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ ভেঙে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন।
১২ জুন, ১৯৯৬
সপ্তম সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার ৯৩৫ জন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত প্রত্যেকেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন ২৯৩ আসনে। এ ছাড়া জাকের পার্টি ২৪১, ইসলামী ঐক্যজোট ১৬৬, গণফোরাম ১০৪, জাসদ (রব) ৬৭ ও অন্যান্য দলের ৮৬৪ জন প্রার্থী ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৮৪ জন। ২ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৪৮ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬, বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২, জামায়াতে ইসলামী তিন, ইসলামী ঐক্যজোট এক, জাসদ (রব) এক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসনে বিজয়ী হন। ভোটপ্রাপ্তির হার ছিল আওয়ামী লীগ ৩৭.৪৪, বিএনপি ৩৩.৬০, জাতীয় পার্টি ১৬.৪০, জামায়াত ৮.৬১, ইসলামী ঐক্যজোট ১.০৯, জাসদ (রব) ০.২৩, স্বতন্ত্র ১.০৬ এবং অন্যান্য দল ১.৬৭ শতাংশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এই সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করেছিল।
১ অক্টোবর, ২০০১
অষ্টম সংসদ নির্বাচন
সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ সাঈদের নেতৃত্বে অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর। ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৪ জন। ৫৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি (নাজিউর) ও ইসলামী ঐক্যজোট এ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেয়। বিএনপি ২৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৯৩ আসনে জয়ী হয়। আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়ী হয় ৬২টি আসনে। এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৮১ আসনে লড়ে জয়ী হয় ১৪টি আসনে। জামায়াত ৩১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৭টি লাভ করে। ৪৮৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হন ছয়জন। ইসলামী ঐক্যজোট সাত আসনে লড়ে লাভ করে দুটি আসন। এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি করে আসন লাভ করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। এ সংসদ পূর্ণ মেয়াদ স্থায়ী হয়।
২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮
নবম সংসদ নির্বাচন
এম এ আজিজের কমিশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি। আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশ নির্বাচন বর্জন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে জটিলতার একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন। কিন্তু আন্দোলনের মুখে ড. ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং এম এ আজিজের নির্বাচন কমিশনের অবসান ঘটে। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনা সমর্থনে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয় নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনও পুনর্গঠিত হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এতে ৩৮টি দল অংশ নেয়। ভোটার ছিলেন ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে ২৬৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৩০, বিএনপি জোট ২৬০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩০, জাতীয় পার্টি ৪৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৭, জামায়াতে ইসলামী ৩৯ আসনে প্রার্থী দিয়ে দুটি, জাসদ সাত আসনে প্রার্থী দিয়ে তিনটি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি পাঁচ আসনে প্রার্থী দিয়ে দুটি আসন লাভ করে। এলডিপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি করে আসন পায়। ১৫১ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে চারজন জয়ী হন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন।
৫ জানুয়ারি, ২০১৪
দশম সংসদ নির্বাচন
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দশম সংসদ নির্বাচন করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটসহ ২৮টি দল নির্বাচন বর্জন করে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার এ বিতর্কিত নির্বাচনের সার্বিক ফলাফলে আওয়ামী লীগ ২৩৪, জাতীয় পার্টি ৩৪, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়, জাসদ পাঁচ, তরিকত ফেডারেশন দুই, জাতীয় পার্টি-জেপি দুটি, বিএনএফ একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসন লাভ করেন। মাত্র চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। ফের সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮
একাদশ সংসদ নির্বাচন
দলীয় সরকারের (আওয়ামী লীগ) অধীনে কে এম নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ‘আগের রাতে ভোট সম্পন্ন করা’ এই বিতর্কিত নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সবাই অংশ নেয়। ভোটার ছিলেন ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬৫ জন। ৬টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় ইভিএমে। প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৮০ শতাংশ। ১০৩টি আসনের ২২৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৯, বিএনপি ৬, গণফোরাম ২, জাসদ ২, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩, তরীকত ফেডারেশন ১ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসন লাভ করেন। আওয়ামী লীগই সরকারে থাকে।
৭ জানুয়ারি, ২০২৪
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নবিদ্ধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ‘আমি-ডামি’ ভোট হিসেবে পরিচিত এই বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি এক, জাসদ এক, কল্যাণ পার্টি এক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হন। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল ভোট বর্জন করে। দ্বাদশ সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে পালান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও অনেক নেতা।