প্রাবন্ধিক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো প্রস্তুতি নিয়ে হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। এ দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বহুকাল ধরেই অত্যন্ত খারাপ। এবার রাজনীতি ভালোর দিকে নেওয়া উচিত, ভালোর দিকে যাত্রা করা উচিত। এজন্য দরকার রাজনৈতিক নেতা এবং রাজনৈতিক দল। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা বলা যায় এরকম একজন ব্যক্তিও তো দেশে নেই। রাজনৈতিক দল বলা যায় এরকম একটা দলও দেশে নেই। এই বাস্তবতায় একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচন ধরেই নিলাম যে, বিদেশি শক্তির দ্বারা পরিকল্পিত এবং বিদেশি শক্তি এসব দেখাশোনা করছে, পরিচালনা করছে দৃশ্যের অন্তরালে থেকে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এই বিষয়গুলো যারা বুঝতে পারেন, তাদের তো খুব আশান্বিত হওয়ার কারণ নেই। আমাদের জাতীয় জীবনের সম্ভাবনা আছে অবস্থা ভালো করার, কিন্তু রাজনৈতিক নেতা এবং রাজনৈতিক দল না থাকার ফলে ভালো ধারা যে সৃষ্টি হবে সেটা বলা যায় না। আর দৃশ্যের অন্তরালে থেকে কোনো অদৃশ্য শক্তি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগীরা যদি এই ঘটনাগুলো চালিয়ে নেয়, তাহলে তো আমাদের আশান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। কাজেই যারা বিবেচনাশীল, যারা জানতে চান এবং বুঝতে চান, নিজেদের অবস্থা প্রকৃতপক্ষেই খারাপ থেকে ভালোর দিকে নিতে চান, তাদের আশান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে এই সমাজবিশ্লেষক বলেন, রাজনৈতিক নেতা তো রাতারাতি তৈরি হয়ে যাবে না। সময় লাগবে। কিন্তু কিছু লোকের মধ্যে নেতৃত্ব সৃষ্টির বা নেতা হওয়ার আকাক্সক্ষা আছে। রাজনৈতিক দল গঠনের কিছু চেষ্টা আছে এবং সেটা ভবিষ্যতে বাড়বে। নেতাও গড়ে উঠবে। ফলে এখানে আশান্বিত হওয়ার কারণ আছে।
এবার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যে ইশতেহার দিয়েছে জনগণের কাছে, এই ইশতেহারে সব দলই ভালো কথা লিখেছে। তো এই ভালোর পেছনে যদি কোনো প্রস্তুতি থাকতো, তাহলে আশার কারণ ছিল। কিন্তু নেতৃত্ব সৃষ্টির এবং দল গঠনের কোনো প্রস্তুতি ছাড়া নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ভালো’ ‘ভালো’ কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করা, এটার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে উন্নতিশীলতার কোনো লক্ষণ নাই। নির্বাচনকালীন যে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে সে প্রসঙ্গে এই গবেষক বলেন, একটা কথা হলো যে, আমাদের দেশটা ১৯৭২ সাল থেকেই একটানা মারামারি-কাটাকাটির মধ্য দিয়ে গেছে। রাজনীতিতে যুক্তি-বুদ্ধি, বিচার-বিবেচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি এগুলো কাজ করেনি। তার ফলে কোনো ধারাবাহিকতাই গড়ে ওঠেনি ভালোর দিকে। সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করছে। তবে তা কেবল শাস্তি দিয়ে দমন করা যাবে না। শাস্তির সঙ্গে কিছু ভালো চিন্তাও প্রচার করা দরকার। এই প্রচারটা অতীতে রাজনৈতিক নেতারা করতেন। সরকারের দিক থেকেও প্রচার করা হতো। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব সম্পর্কে এই রাষ্ট্রচিন্তাবিদ বলেন, যদি কোনো কনস্টিটিউয়েন্সিতে ক্যান্ডিডেটরা একটু উন্নত চরিত্রের হয় এবং দলের নেতাদের স্বভাব যদি একটু ভালো হয় তাহলে অবশ্যই তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক সহায়তা করবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকদের সঙ্গে কথা বললে দেখা যায় তাদের মধ্যেও নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে ভীতি আছে। আগের মতো তো পুলিশকে লোকে মানে না। আবার গন্ডগোলে পুলিশের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য খুব খারাপ অবস্থা এবং রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে তাদের মধ্যে আন্তরিক চেষ্টা থাকলেও একটা ভীতি কাজ করে।