হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের ঘটনা হবে না বলেই প্রত্যাশা করি। কারণ আগে যে দলগুলো সমালোচনা করত তারাই এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের জায়গা থেকে আশা করি ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে। তবে অনেক দল অংশগ্রহণ না করায় ভোট সর্বজনীন হচ্ছে না। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সময়ে যে দলগুলো আন্দোলন করেছে তারাই এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তারা ভোট কেন্দ্র দখল নিয়ে, জাল ভোট নিয়ে, সহিংসতা নিয়ে সমালোচনা করেছে। তাই এখন যখন তারাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাই আশা করছি সে কাজগুলো তারা করবে না। তাই সহিংসতার শঙ্কা কম হবে বলেই প্রত্যাশা। যদিও নির্বাচন সর্বজনীন হচ্ছে না। কারণ অনেক দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। একটি দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে। জাতীয় পার্টিও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। এরকম আরও অনেক দলই নির্বাচনে আসেনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ভালোই প্রচার করেছে। যদিও প্রচারের সময়সীমা কিছুটা কম ছিল। আরপিও সংশোধনের কারণে প্রচারে কিছু পরিবর্তনও এসেছে। রাস্তাঘাটের ক্যাম্পেইন কিছুটা কম হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব দলের প্রার্থীরা বেশ জোরেশোরেই প্রচার চালিয়েছেন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ হ্যাঁ, না ভোটের আগ্রহ থেকে অনেকে ভোট দিতে যাবেন। অনেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে যাবেন। মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, প্রার্থী বাছাই গতানুগতিক হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো দেখে কার অর্থ আছে, কার ক্ষমতা আছে। তাদেরই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে। এজন্য আইনজীবীরা খুব কম নমিনেশন পেয়েছেন। কিন্তু সংসদে আইনজীবীদের কাজ অনেক বেশি। এখন সবাই এমপি হতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রার্থিতা বাছাইয়ে আর্থিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
আগের নির্বাচনগুলো থেকে কোন আসনে কী ফল আসতে পারে এ বিষয়ে দলগুলোর একটা ধারণা আছে। জামায়াত জানে বিএনপি কোন আসনে জিতেছিল, তাদের ভোট ব্যাংক কেমন। বিএনপি জানে জামায়াত কোন আসনে বিজয়ী হয়েছিল। তাদের প্রার্থীর সম্ভাবনা কেমন। বেশ কিছু জায়গায় কৌশলী হতেও দেখা গেছে। যেমন- ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে তার তেমন কোনো পরিচিতি নেই। একইভাবে
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির প্রার্থীও তেমন পরিচিত মুখ না। রাজনৈতিক দলের ইশতেহার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুনে থাকি রাজনীতি করতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়।
ইশতেহারেও জনগণের কাছে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলগুলো। ক্ষমতায় গেলে তার কত শতাংশ পূরণ করবে সেটা সময়ের অপেক্ষা। তবে যে দলই ক্ষমতাই আসুক দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়াই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সব দিক দিয়ে দেশ এক জায়গায় থমকে গেছে। মব কালচারে ধস নেমেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। চুরি, ছিনতাই, হত্যায় অতিষ্ঠ জনজীবন। অর্থনীতি থমকে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য নেই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। মানুষ নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে। সবার প্রত্যাশা নির্বাচিত সরকার এসে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মানুষকে উদ্ধার করবে।