ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেছেন, ১৫ বছর পরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারছে। তাই উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। গ্রামেগঞ্জে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সব দল বেশ ভালোই প্রচার চালিয়েছে। তাই ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলেই মনে হচ্ছে। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, কেউ একতরফা বিজয় পাবে না। বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই জিতে আসবেন প্রার্থীরা।
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশা করি সহিংসতা কম হবে। সার্বিক নির্বাচনের পরিবেশ দেখে তাই মনে হচ্ছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর তুলনায় সহিংসতা কম মনে হচ্ছে। আজকে এবং পরবর্তী সময়ে এই পরিবেশ ধরে রাখতে পারলে এই নির্বাচন উদাহরণ হতে পারে।
নির্বাচনের কমিশনের হাতে এখন সব ক্ষমতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কীভাবে কাজ করালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে বিষয়ে কৌশলী হতে হবে। পুলিশ কীভাবে মোতায়েন থাকবে সেটা নিশ্চয় পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাবাহিনীর হাতে ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা রয়েছে। তারাও মাঠে। কেউ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে সহিংসতা করতে চাইলে তারা কার্যকর ভূমিকা নিলে সেটা রুখে দেওয়া সম্ভব। জানমালের ক্ষতি ঠেকাতে পরিকল্পনা নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বিষয়ে অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বেশ কিছু দল শেষ মুহূর্তে ইশতেহার দিয়েছে। ইশতেহার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে দেওয়া উচিত। কারণ ভোটাররা ওই ইশতেহার দেখেই তো কোন দলকে ভোট দেবে সেটা নির্ধারণ করবে। পাঁচ বছর পরে তারা বলতে পারবে কোন প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে আর কোনগুলো হয়নি। এজন্য ইশহেতারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভোটাররা দলের কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়ন করতে পারবে। কিন্তু আমাদের দেশে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি না রাখার ইতিহাস রয়েছে। আগেও দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দলগুলো কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবো জনগণের কাছে করা ওয়াদা রক্ষা করুন।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের ধারাকে সুরক্ষিত করতে প্রার্থী বাছাইয়ের ধারায় পরিবর্তন আনা উচিত। নতুন ধারার প্রবর্তন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিচের দিক থেকে উচ্চস্তরের দিকে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বাছাই প্রক্রিয়াতেই বেরিয়ে আসেন যোগ্য প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে এ বিষয়টা দেখা গেছে। প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিলে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করা সম্ভব হয়। এতে কর্মী এবং জনগণের পার্টির প্রতি আস্থা বাড়ে। দলের মধ্যে দ্বিমত কমে আসে। অনেক সময় অভিযোগ করা হয় এলাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের কর্মীদের মতকে মূল্যায়ন করলে এ অভিযোগ কমে আসে এবং বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।