ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

আজকের পত্রিকা

সহজ হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ
একাদশ সংসদ নির্বাচন
গোলাম রাব্বানী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পদ্ধতি সহজ হচ্ছে। বর্তমানে সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। সংলাপে যেসব সুপারিশ এসেছে, তার ভিত্তিতে ওই শর্ত শিথিল করে ১ শতাংশের বদলে ১ হাজার ভোটারের সমর্থন দেখানোর বিধান করার পক্ষে ইসি কর্মকর্তারা। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে পাওয়া সোয়া পাঁচ শ প্রস্তাব থেকে তিন ডজন সুপারিশ বাছাই করে একটি খসড়া করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়; সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত শিথিল করার সুপারিশও সেখানে রয়েছে। সেই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও সংলাপে বিভিন্ন দল জামানতের টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছিল।

ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে সমর্থনের কোনো প্রমাণ দেখাতে হয় না। পৌরসভায় ১০০, উপজেলায় ২৫০, সিটি করপোরেশনে ৩০০ ভোটারের সমর্থন তালিকা দিতে হয়। সেই বিবেচনায় সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ভোটারের সমর্থন দেখানোর শর্ত দেওয়ার সুপারিশ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরপিওর ২০(এ) ধারায় ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩(১)(এ) ধারায় জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ১২(৩এ)(এ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বিধান সহজ করে ১ হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দেওয়ার বিধান যুক্তের কথা বলা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় ‘সশস্ত্রবাহিনী’কে যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল কয়েকটি দল। তবে ইসি সচিবালয়ের করা খসড়ায় সে বিষয়টি রাখা হয়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা। জানা গেছে, অনলাইনে মনোনয়ন, ইভিএমের নতুন বিধান, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের আগেই ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা, পোলিং এজেন্টদের ইসির পরিচয়পত্র দেওয়া, সমভোটপ্রাপ্তদের লটারির নিয়ম বাদ দিয়ে আবার ভোট নেওয়া, নির্বাচনী ব্যয় তদারকি ও অডিট করতে মনিটরিং কমিটি গঠন, ব্যয় বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে জরিমানা ১ লাখ টাকা করা, অনিয়মে জড়িত ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তত্ক্ষণাৎ বদলি, অনিয়ম-পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে চোখ রাখতে তৃতীয় কাউকে রাখা, ভোটের অভিযোগ দাখিল-নিষ্পত্তি দ্রুত করতে বিশেষ সেন্টার করাসহ বেশকিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে সুপারিশের খসড়া তালিকায়। রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজ, গণমাধ্যম, নারী নেত্রী, পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংলাপে পাওয়া এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) অন্তত দুই ডজন অনুচ্ছেদে সংযোজন-বিয়োজন বা সংশোধন করতে হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী গত জুলাই-অক্টোবর সময়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। আর চলতি মাসের মধ্যে আইনি সংস্কার চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। আইন সংস্কারসংক্রান্ত কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি, আরপিওতে অন্তত দুই ডজন অনুচ্ছেদে সংযোজন-বিয়োজন-সংশোধনের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে পরামর্শ করে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত সুপারিশগুলো তৈরি করা হবে।’



এই পাতার আরো খবর