আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গাজীপুরের শ্রীপুরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে ছোট-বড় বিপণিবিতান, বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কেন্দ্র ও বিপণিকেন্দ্রে ভিড় করছেন ক্রেতারা। একই সঙ্গে স্বল্প দামে পোশাক কিনতে অনেকেই ঝুঁকছেন ফুটপাতের দোকানের দিকে।
রবিবার (১৫ মার্চ) শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, বনলতা সুপার মার্কেট, খান মার্কেট ও রনি ফ্যাশন-এ ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এসব মার্কেটে মানুষের ভিড়ে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের দরদামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া বরমী বাজারের বোরহান সরকার প্লাজা, জনতার মোড়ের জব্বার ফকির মার্কেট এবং খেয়াঘাট মসজিদ মার্কেটেও সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। আশপাশের ফুটপাতের দোকানিরাও তুলনামূলক কম লাভে পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানান বিক্রেতারা।
ক্রেতারা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলেও আয়ের পরিমাণ সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে নামী প্রতিষ্ঠানের পোশাক পছন্দ হলেও অনেকের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এখন ফুটপাতের দোকান থেকে কেনাকাটা করছেন।
শ্রীপুর পৌর শহরের প্রধান মার্কেটগুলোতে পাঞ্জাবি-পায়জামা পাইকারি ও খুচরা বিক্রিও দেখা গেছে। অস্থায়ী কাপড়ের দোকানগুলোতে পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্ট, জুতা ও শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকছে। একই এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের পোশাক পাওয়া যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকেই এখানে কেনাকাটা করতে আসছেন।
মাওনা চৌরাস্তার গাউছিয়া ফ্যাশন-এর স্বত্বাধিকারী সেলিম শেখ বলেন, এবার তাঁর দোকানে নারীদের পোশাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পোশাক আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করেও গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি ভালো হচ্ছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল