নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও তিন সদস্য নিজ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়ে থাকা ইরানি ফুটবলারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে তিনজন। রবিবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে প্রথম দফায় পাঁচজন এবং পরে আরও দুইজন ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তাদের মধ্যে কয়েকজন মত পাল্টে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। দ্বিতীয় দফায় আশ্রয় নেওয়া দুইজনের একজন আগেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নতুন করে আরও তিনজন সেই পথে হাঁটলেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে জানান, খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তারা চাইলে পুনর্বিবেচনার সুযোগও পেয়েছেন। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটি অস্ট্রেলিয়া সরকার বিবেচনায় রেখেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
ইরানিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএফআইআরআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া তিন ফুটবলার হলেন মোনা হামুদি, জাহরা সারবালি এবং জাহরা মেশকাহকার। তারা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ইরান নারী দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেবেন। এরপর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সবাই একসঙ্গে দেশে ফিরবেন।
গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া থেকে মালয়েশিয়ায় যায় ইরান নারী ফুটবল দলের বাকি সদস্যরা। ইরানের সঙ্গে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় তারা।
উল্লেখ্য, ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে জাতীয় সংগীত চলাকালে নীরব থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা। দেশে ফিরলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে। সেই ঘটনার পরই কয়েকজন খেলোয়াড় বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এখন তাদেরই কেউ কেউ আবার নিজ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া