যথাযথ নীতি সহায়তা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের প্যাকেজিংশিল্প থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ (জিটিবি) ২০২৬ ও গ্যাপএক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত যখন ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ শিল্পকেও একই গুরুত্ব ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। সঠিক নীতি সহায়তা পেলে এই খাতের উদ্যোক্তারাও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করে একই মাত্রার রপ্তানি আয় অর্জন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, জটিল নীতিমালা এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতায় প্যাকেজিং খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ব্যাবসায়িক কাঠামো মুক্ত প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ‘আমরা চাই, সব ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হোক’, বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
বিএনপির অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, দলটি বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে।তাঁর ভাষায়, ‘ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে তাঁরা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যয় হ্রাস, ব্যবসা সহায়তা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাইজেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। প্যাকেজিংশিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের চেয়েও প্যাকেজিং ভোক্তার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে এই খাতের উন্নয়ন মানেই পুরো রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের অ্যাকসেসরিজশিল্প স্থানীয় পোশাক কারখানার চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাকসেসরিজ আমদানি নিরুৎসাহ করতে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান।
বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, নীতিগত সহায়তা ও নগদ প্রণোদনার অভাবে বাংলাদেশ প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক প্যাকেজিং বাজারের বড় অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এই খাতের সরাসরি রপ্তানি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানি ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো প্যাকেজিং রপ্তানিতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দিলেও বাংলাদেশে এখনো সরাসরি রপ্তানিতে কোনো প্রণোদনা নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ শিল্পায়িত রাষ্ট্র হওয়ার সক্ষমতা রাখে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমানো ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ‘প্রযুক্তিনির্ভর হলে ভোগান্তি কমবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে’, বলেন তিনি।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, পোশাক খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যে এগোতে হলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প, বিশেষ করে অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নতমানের প্যাকেজিং সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।
এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জিটিবি ২০২৬ কাজ করছে।
১৫টিরও বেশি দেশের চার শতাধিক ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণে প্রায় দেড় হাজার স্টল নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্ট প্রযুক্তি প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এবং শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম