বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-এর শেষ ম্যাচে বুধবার সিয়াটলে মুখোমুখি হবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও কাতার। দুই দলের সামনেই এখনো নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে, তবে সেই পথ কঠিন। তাই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
দুই ম্যাচ শেষে বসনিয়া ও কাতার দুই দলেরই সংগ্রহ এক পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বসনিয়া রয়েছে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে, আর কাতার চতুর্থে।
প্রথম ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ভালো শুরু করেছিল বসনিয়া। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খায় দলটি। ফলে নকআউটে যেতে হলে কাতারকে হারানোর পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলও নিজেদের পক্ষে চাই বসনিয়ানদের।
সের্গেই বারবারেজের দল কাতারকে হারাতে পারলে এবং কানাডা সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে গোল ব্যবধানের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে কাতারও একই অবস্থায় রয়েছে। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কানাডার কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা। সেই হারে তাদের নকআউটের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গেছে।
কাতারকে শেষ ৩২-এ যেতে হলে বসনিয়াকে হারাতে হবে। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডকে হারাতে হবে কানাডাকে এবং গোল ব্যবধানেও এগিয়ে থাকতে হবে কাতারকে। তবে ড্র বা হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির।
দলগত খবরেও দুই দলই কিছুটা সমস্যায় রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তার জায়গায় ডেনিস হাজদিকাদুনিচকে দেখা যেতে পারে রক্ষণভাগে। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এদিন জেকোর ওপর আবারও ভরসা রাখছেন কোচ।
কাতারও পাচ্ছে না দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হোমাম আহমেদ ও আসিম মাদিবোকে। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় তারা নিষিদ্ধ হয়েছেন। ফলে একাদশে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছেন কোচ হুলেন লোপেতেগুই।
পরিসংখ্যানও কাতারের পক্ষে নয়। এর আগে দুই দল দুবার মুখোমুখি হয়েছে, যদিও দুটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ। সেখানে একবার ড্র এবং একবার জিতেছে কাতার। ফলে এবার জিততে পারলে কাতারের বিপক্ষে প্রথম জয় পাবে বসনিয়া।
কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকেই কিছুটা এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। তবে দুই দলের সামনে যখন নকআউটে ওঠার শেষ সুযোগ, তখন সিয়াটলে জমজমাট এক লড়াইয়েরই অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীরা।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি