বিশ্ব শরণার্থী দিবসে উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও রোহিঙ্গা কমিউনিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে একটি র্যালি ক্যাম্পের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভায় কয়েক শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের অতিরিক্ত ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মাজেদ আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিনিধি ও এনজিওকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একইভাবে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও র্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটানোর পরও প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাই মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এদিকে ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও সামনে এসেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থীসংকট, বাংলাদেশে আশ্রিত ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা প্রায় ৯ বছর ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করলেও এখনো শুরু হয়নি কার্যকর প্রত্যাবাসন। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাদের।
বর্তমানে শরণার্থীশিবিরগুলোতে সীমিত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, তারা মিয়ানমারে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে চান। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আশ্রয় পেলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্পজীবন কোনো সমাধান নয় বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মতে, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর রোহিঙ্গাসংকটের নেতিবাচক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে জনসংখ্যার ভারসাম্য, শ্রমবাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক তরুণ রোহিঙ্গাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরসা, আরএসওসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, টার্গেট কিলিং ও মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। তবে সরকারের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ফলে গত কয়েক বছরে ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি