শুভ কাজে সবার পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখা। ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফল উৎসব। নানা রঙের ফল, হাসি-আনন্দ আর ভালোবাসায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের ব্লুমিং রোজেস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সংগঠক এম. মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, এনআরবিসি ব্যাংক-এর ম্যানেজার মো. সাজ্জাদুর রহমান পিন্টু এবং শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস)-এর মহাসচিব মো. নাজমুল হোসাইন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোপান ছামী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডি ডি রয় বাবলু, প্রধান শিক্ষক মল্লিকা রানি, বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার কার্যকরী পরিষদের সদস্য রাকিব হোসেন ইমনসহ শুভসংঘের সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে আজকের এই আয়োজন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া আমাদের সামাজিক দায়িত্বের অংশ।”
তিনি বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের মানুষের কল্যাণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফুন নাহার শারমীন বলেন, “আজকের আয়োজনটি সত্যিই ব্যতিক্রমী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এমন একটি সুন্দর উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। বসুন্ধরা শুভসংঘের মতো সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম সমাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
বিশেষ অতিথি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বসুন্ধরা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি তারা মানবিক কাজেও অবদান রাখছে। আজকের এই আয়োজন তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”তিনি আরও বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হোক—এটাই প্রত্যাশা।”
ফল উৎসবে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী অভিভাবক, শিক্ষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্যরা।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ