যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১৪ দফার একটি কাঠামোগত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।
এই চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা কমানো, লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।
প্রকাশিত নথির দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের সরকার একটি ‘পারস্পরিক ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার আওতায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (লেবানিজ আর্মি) দেশের পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। এই শর্ত পূরণ হওয়ার পরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এই ১৪ দফার কাঠামো চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সীমান্তে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটানো, লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া গড়ে তোলা।
তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে চুক্তির বাকি ধারাগুলোর বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাঠামো চুক্তির অন্যান্য দফা সম্পর্কেও পর্যায়ক্রমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে এবং ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো অপসারণের বিষয়টি বাস্তবে কতটা সম্ভব হবে, সেটিই চুক্তি বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন/একেএ