গাজীপুরে উন্নত জাতের আখের বাণিজ্যিক চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ এলাকায় চিবিয়ে খাওয়া বা রস তৈরির উপযোগী আখ চাষ করছেন কৃষক। আখের সঙ্গে আন্তফসল হিসেবে আবাদ করা যায় শাকসবজি, যা খুবই লাভজনক। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এ বছর গাজীপুরে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে কাপাসিয়া, শ্রীপুর ও কালীগঞ্জে শীত মৌসুমে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী আখের গুড়। এ তিন উপজেলার মাঠ থেকে আখ সংগ্রহের পর মাড়াই করে রস বের করা হয়। এরপর বড় চুলায় দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় গুড়। এ জেলার কৃষকরা ঈশ্বরদী ১৬, ৩৬, টেনাই, বিএসআরআই ৪১ ও ৪২ জাতের আখ বেশি চাষ করেন। এ অঞ্চলের আখের গুড় স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পাইকারি ১৩০-১৫০ টাকা এবং খুচরা ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আখের গুড় স্থানীয় কৃষিনির্ভর অর্থনীতির একটি বড় উৎস।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আখ লাভজনক ফসল। আখের সঙ্গে সাথি বা আন্তফসল হিসাবে কম সময়ে উৎপাদনযোগ্য অন্য ফসল ফলানো যায়। এটা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, আগাছা দমন এবং অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করে।
চলতি বছর আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ৮০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিকে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ, সার ও সেচ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়, গাজীপুরের বিজ্ঞানীরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের আখ চাষে সহায়তা করছেন।