জার্মানিকে হারিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে ইকুয়েডর। এ হারের পর বর্তমান আসর থেকে শিগগিরই চারবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বাদ পড়বে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক মিডফিল্ডার টনি ক্রুস।
টিকটকে নিজের ভাই ফেলিক্স এবং জার্মানির সাবেক সতীর্থ লুকাস পোডলস্কির সঙ্গে এক লাইভ অনুষ্ঠানে এই মিডফিল্ডার বলেন, আমাদের বিপক্ষে খেলাটা প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হওয়া উচিত; আমাদের ভালো রক্ষণভাগ গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিপক্ষের জন্য পরিস্থিতি দুঃসহ করে তুলতে হবে। আমরা এখনও তা করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মুসিয়ালা ও ভিরৎজকে সেরা ফর্মে পাওয়া প্রয়োজন, যা এখন হচ্ছে না। যদি এই বিষয়গুলোর কোনো পরিবর্তন না হয়, তবে আমাদের বিদায় নিতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ইকুয়েডরের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের পর পোডলস্কিও দলের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দ্রুত সেসব থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
পোডলস্কি ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে এমন হার ভালোই হয়। হয়তো এমন হার ভালো, যাতে সবাই নিজেদের রুমে ফিরে গিয়ে বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারে।
জার্মানি তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে ‘গ্রুপ ই’-র চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নক-আউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল, কিন্তু ইকুয়েডরের কাছে হারের পর দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
ক্রুস বলেন, ২০১৪ সালে এমন কিছু ম্যাচ ছিল, যেখানে আমরা খারাপ খেলেছিলাম, যেমন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি। কিন্তু তবুও আমরা সেই ম্যাচগুলো জিততে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় না বর্তমান দলের মধ্যে সেই সক্ষমতা আর আছে।
সমালোচনামূলক মন্তব্য করা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপে শীর্ষ ফেভারিটদের বিপক্ষে লড়াই করার মতো সক্ষমতা জার্মানির রয়েছে। অন্যদিকে ক্রুস বলেন, আমি আমার আগের কথার ওপরই অটল আছি। আমার বিশ্বাস, ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের ক্ষেত্রে যদি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে কাজ করে, তবে আমরা তাদের হারাতে পারব।
রাউন্ড অফ ৩২-এ জার্মানি প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে এবং বিজয়ী দলটি শেষ ১৬-তে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের বিপক্ষে খেলবে।
বিডি প্রতিদিন/আরকে