ভেষজগুণ সম্পন্ন সবজি রঙিন ফুলকপি। স্বাদেও ভালো। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপিতে ২৫ শতাংশের বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। যা ত্বক ও চোখকে ভালো রাখে। এটি কোলাজেন ধ্বংস করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এরকম রঙিন ফুলকপি চাষ করে বাম্পার ফলনের সাথে ভালো দাম পাওয়ায় সবার কাছে অনুকরয় হয়ে উঠেছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের কাজিপাড়ার কৃষক মতিয়ার রহমান।
তিনি বছরের বিভিন্ন সময় সবজি চাষ করে থাকেন। এ বছর অন্যান্য ফসলের সাথে ফুলকপি, স্কোয়াশ, ব্রুকলি ও ওলকপি চাষ করেছেন। সাথে চাষ করেছেন নতুন জাতের রঙিন ফুলকপিও। প্রতিদিন কৃষকসহ অনেকেই তার খেতে বিদেশি জাতের রঙিন ফুলকপি দেখতে ভিড় করছেন। কেউ কেউ নিচ্ছেন চাষের পরামর্শ। আবার কেউ কেউ তুলছেন রঙিন ফুলকপির ছবি। মতিয়ারের সফলতায় অনেকেই রঙিন কপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, টিভিতে রঙিন কপির ছবি দেখে তা চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এজন্য গত বছর দিনাজপুর, বীরগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় রঙিন কপির বীজ কিংবা চারার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছি। কিন্তু রঙিন কপির বীজ বা চারার সন্ধান কোথাও পাইনি। এক পর্যায়ে একটি কোম্পানীর জনৈক প্রতিনিধি প্যাকেট ছাড়াই বেগুনি রঙের ভেলেনটিনা ও কমলা রঙের কেরটিনা জাতের রঙির কপির বীজ সরবরাহ করেন। এসব বীজের চারাসহ ব্রুকলি, ফুলকপির চারা আবাদ করি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চলতি বছরও দেশি জাতের কপি বাদে ৪০ শতক জমিতে বেগুনি, কমলা, খয়েরী রঙের কপি ও ব্রুকলি এবং ১৫ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে অন্তত ২০ হাজার টাকা।
এসব কপি চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি জানান, খেতে কোনো প্রকার কীটনাশক ও সার প্রয়োগ না করে কেবল জৈব সার ব্যবহার করেছেন তিনি। চারা রোপণের ৭০ থেকে ৭৫দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসে। বর্তমানে এসব কপি বিক্রি করছেন। বাজারে ক্রেতাদের রঙিন কপির প্রতি আগ্রহ থাকায় দামও ভালো পাচ্ছেন। বাজারে সাধারণ ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে রঙিন কপি। এসব কপি বিক্রি করে ইতিমধ্যেই খরচের টাকা উঠেছে। আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করতে পারবো আশা করছি। নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে সফলতা পাই।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩২০ শতক জমিতে ১৬টি স্কোয়াশ প্রদর্শনী ও ১৮০ শতক জমিতে ৬টি রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের ছোট হাশিমপুর গ্রামের পুলক রায়, আউলিয়াপুকুর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামের ভবতোষ রায়, ভিয়াইল ইউপির জয়পুর গ্রামের জুলেখা খাতুন ও তেঁতুলিয়া ইউপির সিংগানগর গ্রামের চিত্ররঞ্জন রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। স্কোয়াশ চাষ করেছেন সাতনালা ইউপির জোত সাতনালা গ্রামের রেজাউল হক, ফতেজংপু ইউপির ফতেজংপুর গ্রামের মহসিন আলী, নাছিমা বেগম, ইসবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণনগর গ্রামের মনতাজুল হক, অমরপুর ইউপির অমরপুর গ্রামের রুবেল ইসলাম, ভিয়াইল ইউপির জয়পুর গ্রামের মর্জিনা বেগম, পুনট্টি ইউপির বিশ্বনাথপুর গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা, তেঁতুলিয়া ইউপির গোন্দল গ্রামের গজেন্দ্র নাথ রায়।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে ১৬টি স্কোয়াশ ও ৬টি রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন উচ্চ মূল্যের সবজি যেমন স্কোয়াশ, ব্রুকলি, রঙিন বাঁধাকপির আবাদ প্রদর্শনী কৃষকদের প্রদান করা হয়েছে। রঙিন ফুলকপিতে সাদা ফুলকপির তুলনায় অধিক পুষ্টিগুণ রয়েছে।রঙিন ফুলকপির বাজারমূল্য সাদা ফুলকপির তুলনায় অনেক বেশি। উচ্চ মূল্যের নতুন সবজি হিসেবে এগুলো গ্রাহকদের নিকট সমাদৃত হচ্ছে। আশা করছি এসব নতুন আবাদ সম্প্রসারিত হলে কৃষকরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ