কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় অবস্থিত তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একসময় এ অঞ্চলে নারী শিক্ষার অন্যতম আলোকবর্তিকা ছিল। বিশিষ্ট দানবীর জুনাব আলী ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। উপজেলার মাত্র দুটি বালিকা বিদ্যালয়ের একটি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অবহেলা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিষ্ঠানটি আজ নানা সংকটে জর্জরিত।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ফলে ভবনের জীর্ণদশা, শৌচাগারের সংকট, লাইব্রেরি ও ক্যান্টিনের অভাব এবং মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এক সময়ের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৬০ জনে। একই সঙ্গে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠার আগে এ অঞ্চলে মেয়েদের জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর এলাকাবাসীর মধ্যে নারী শিক্ষা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হলেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন না হওয়ায় সেই সম্ভাবনা ক্রমেই ম্লান হয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের গ্রিল গেট ভাঙা এবং মূল ফটকের এক পাশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মাঠজুড়ে জমে আছে পানি। পুরোনো দ্বিতল ভবনের নিচতলার বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে, দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব এবং ছাদ থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। কোথাও কোথাও চুন-সুরকি ঝরে পড়ছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখাও নেই। পুরো পরিবেশে অবহেলার ছাপ স্পষ্ট।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার, মারিয়া ইসলাম শারাপোভা ও জান্নাতুল নূর জানায়, বৃষ্টির সময় অনেক শ্রেণিকক্ষে পানি চুঁইয়ে পড়ে এবং মাঝেমধ্যে দেয়ালের চুন-সুরকি খসে পড়ে। ভূমিকম্পের সময় তারা আতঙ্কে থাকে। এছাড়া ওয়াশরুমের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাদের দাবি, দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি আধুনিক লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি একসময় এই মফস্বল এলাকায় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হতো। কিন্তু নানা অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীন আক্তার বলেন, দানবীর জুনাব আলী প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নজরদারির বাইরে রয়েছে। ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে এবং যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়টির সংস্কারের বিষয়ে আমরা কাজ করছি এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশা করছি। আর নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এগোবে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল