বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, দেশে গত ২০ মাসে অন্তত ৫০টি টেক্সটাইল মিল (কারখানা) বন্ধ হয়েছে। আরও ৫০টির বেশি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ কারখানাগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার কম নয়। এতে ২ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছে। চাইলেই বন্ধ হওয়া মিলগুলো চালু করা যাবে না। এ খাত নিয়ে বিগত ২০ মাসে সরকারের কোনো আলোকপাত দেখতে পাইনি।
গতকাল রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিটিএমএ আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, এম মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার প্রমুখ।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, আমার পাঁচটি মিলের মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। বাকিগুলো বন্ধ করার উপায় খুঁজছি। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একটা সময় টেক্সটাইলবিহীন বিটিএমএ সভাপতি দেখবেন। তিনি স্পিনিং মিলকে রক্ষা করার জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিটিএমএর সভাপতি আরও বলেন, আমরা সুতার জন্য ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। অতীতে একাধিকবার ভারত বিনা কারণে তুলা রপ্তানি বন্ধ করেছে। সুতা রপ্তানিও বন্ধ করেছে। এ অতিনির্ভরতা ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনবে। গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। মূলত ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করছে বাংলাদেশে। ভারতের ব্যবসায়ীরা যে দামে সুতা রপ্তানি করছে, সে হিসাবে দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। যদিও মজুত থাকা এ সুতার প্রকৃত দাম প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, আমরা মনে করি এ সেক্টরকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচানোর সময় এখন আর নেই। এ সেক্টরটি অনেকটা আইসিইউতে চলে গেছে। এ সেক্টরটাকে বাঁচাতে হলে আপনাকে বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে আলাদাভাবে টেক্সটাইলের জন্য আলাদা উইন্ডো করতে হবে। সুদ হার কমিয়ে আনতে হবে। গত বাজেটে আমরা দেখতে পারলাম টেক্সটাইল সেক্টর সারা বছর সাড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু চলতি বাজেটে আমাদের ট্যাক্স হয়েছে ২৭ শতাংশ। এটি মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
তিনি বলেন, এখন যে সুতা বিক্রি হয় সে টাকা দিয়ে শ্রমিক ও গ্যাসের বিলের টাকা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মালিকরা মিল বন্ধ করে দিচ্ছেন। এ সেক্টরকে বাঁচাতে হলে ব্যাংক সুদের হার ও জ্বালানির দাম কমাতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের এ খাতটিতে বর্তমানে আইসিইউ থেকে বের করার জন্য সরকারকে অচিরেই পদক্ষেপ নিতে হবে।