নাহিদ রানার বাউন্সার ঠিকমতো খেলতে পারেননি শাহিন শাহ আফ্রিদি। বল গ্লাভসে লেগে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ ওঠে, অনায়াসে ধরে ফেলেন মাহমুদুল হাসান জয়। আফ্রিদির আউটের পরপরই জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। ২৬৮ রানের টার্গেটে ১৬৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি মিরপুরে ১০৪ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই প্রথম ও একমাত্র জয়। সবমিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয়। এরপর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ যথাক্রমে ১০ উইকেট ও ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতেছিল। চলতি বছর এটা বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। সিরিজের দ্বিতীয়টি সিলেটে শুরু ১৬ মে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হাতছানি দিচ্ছে নাজমুল বাহিনীকে। প্রথম ইনিংসে ১০১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর নাজমুলদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গেল মার্চে ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা। সেই আত্মবিশ্বাসে পাকিস্তানকে এবার টেস্টে হারাল। অনেক রেকর্ডের মিরপুর টেস্টে টস হেরে প্রথম ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং দুই সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। নাজমুলের ১০১ রানের ইনিংস আবার বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি। ৪০ টেস্ট ক্যারিয়ারে টাইগার অধিনায়কের সেঞ্চুরি ৯টি, যার ৫টি অধিনায়ক হিসেবে। জবাবে মেহেদি হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩৮৬ রান করে প্রথম ইনিংসে। মিরাজ ৫ উইকেট নেন ১০২ রানের খরচে। ২৭ রানে এগিয়ে থেকে নাজমুল বাহিনী ৯ উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে।
টাইগার অধিনায়ক দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন। তখন তার স্কোর ৮৭। এ ছাড়া মুমিনুল ৫৬ রান করেন। প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছিলেন ৯১ রানে। সাবেক অধিনায়ক পাঁচ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করে স্যার জর্জ হ্যাডলির পাশে নাম লেখান। ২৬৮ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় সফরকারীদের। এরপর পাকিস্তান খেলতে নেমে পঞ্চম দিনের তৃতীয় সেশনে অলআউট হয় ১৬৩ রানে। নাহিদ রানার গতি, বাউন্সের মুখে পাকিস্তান ব্যাটিং করে ৫২.৫ ওভার। নাহিদ ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন। যা তার ক্যারিয়ারসেরা।