ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) মানহানি মামলা করেছেন এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল।
সোমবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি এই মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাময়িকীটিতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে প্যাটেলের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পর্কে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সারা ফিটজপ্যাট্রিকের লেখা ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্যাটেল কর্মস্থলে মদ্যপ অবস্থায় থাকেন এবং তার আচরণ অনিয়ন্ত্রিত।
প্যাটেলের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ‘দ্য আটলান্টিক’ জেনেশুনে ও বিদ্বেষমূলকভাবে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে একবার কম্পিউটারে লগ-ইন করতে না পেরে তিনি চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিচলিত হয়ে পড়েন। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্যাটেল।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগেইপ্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, এগুলো সবই মিথ্যা। আপনাদের সাথে আদালতে দেখা হবে।
২০২৫ সালে এফবিআই প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্কে রয়েছেন প্যাটেল। মার্কিন বিচার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার অভ্যাসগত অতিরিক্ত মদ্যপান গ্রহণযোগ্য নয়।
সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস বিয়ার্ডসলে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন প্যাটেল। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে মামলা করলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। ২০২০ সালে সিএনএনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়। গত বছর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক ফিগলিউজির বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাটেলকে এই মামলায় জিততে হলে প্রমাণ করতে হবে যে, দ্য আটলান্টিক জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে। ইউএসসি সেন্টার ফর দ্য পলিটিক্যাল ফিউচারের প্রধান কামি আখভান বলেন, দ্য আটলান্টিক অত্যন্ত উচ্চমানের সাংবাদিকতা বজায় রাখে। প্যাটেল যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা বলেছে, তবে এই মামলায় জয়ী হওয়া কঠিন হবে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস